যদিও বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন এই শুল্কের কারণে চুক্তি অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে বেশ কিছু দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি। এদিকে, শুল্ক আর বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে মাতামাতি করলেও, ২০২৪ এর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ২ শতাংশেরও বেশি।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ও দমাতে পারছে না ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। এপ্রিলে ধার্য করা শুল্ক অবৈধ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের সব দেশের পণ্যে ঢালাও ভাবে ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সিদ্ধান্ত বদলে এক দিনের মধ্যেই তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেছেন এই রিপাবলিকান নেতা।
শনিবার ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে এই ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, এখন থেকে আইন অনুমোদিত সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করবে ওয়াশিংটন। এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পর্যালোচনা করে নতুন এবং আইনসম্মত স্থায়ী শুল্ক হার নির্ধারণ করবে বর্তমান প্রশাসন।
আরও পড়ুন:
শুক্রবার মার্কিন সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে বলা হয়, যে আইনের ভিত্তিতে ট্রাম্প পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিলেন তা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে শুল্কারোপের অধিকার দেয় না। সুপ্রিম কোর্টকে তাই আইনের প্যাঁচেই ফেলেছেন ট্রাম্প। ১৯৭৪ সালে প্রণীত বাণিজ্য আইনের ১২২ ধারা অনুযায়ী যে কোনো দেশের পণ্যে ১৫০ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা আছে প্রেসিডেন্টের। তবে, পরবর্তীতে এই শুল্ক কার্যকর রাখতে প্রয়োজন হবে কংগ্রেসের অনুমোদনের। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কখনোই এই আইন প্রয়োগ করা হয়নি।
কিন্তু এখানেও আছে বিপত্তি। ট্রাম্প দাবি করছেন নতুন এই শুল্কনীতি কার্যকর হলেও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তিগুলো বহাল থাকবে। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, ১০ শতাংশ শুল্কের ভিত্তিতে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যে চুক্তি হয়েছে নতুন শুল্কের কারণে তা অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে। অস্থিতিশীলতা আসতে পারে কানাডা ও মেক্সিকোর সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কেও। এছাড়া, ৫ মাস পর শুল্ক কম-বেশি হওয়ার সম্ভাবনায় থাকায় মার্কিন মুলুকে অর্থায়ন থেকে পিছিয়ে যেতে পারে বিনিয়োগকারীরা।
কেপিএমজির প্রধান অর্থনীতিবিদ ইয়েল সেলফিন বলেন, প্রথমে যে বিষয়ে সবচেয়ে গুরুত্ব দিতে হবে তা হচ্ছে অনিশ্চয়তা বেড়ে যাওয়া। ধারণা করা হচ্ছিল বাণিজ্য চুক্তির আওতায় থাকা দেশগুলো যেমন, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর মধ্যে একধরণের স্থিতিশীলতা থাকবে। কারণ এই দেশগুলোর মধ্যে নির্দিষ্ট আইনি কাঠামো ছিল।
মূলত বাণিজ্য ঘাটতি কমাতেই শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প। কিন্তু দেখা যাচ্ছে ২০২৪ এর তুলনায় এই ঘাটতি ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে বর্তমানে প্রায় ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ফলে, একদিকে বাণিজ্য ঘাটতি অন্যদিকে আইনের বাধ্যবাধকতা- এই দুইয়ে মিলে বিপাকেই পড়তে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন।
এর আগে, গত শুক্রবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের আওতায় ট্রাম্পের বিভিন্ন দেশের ওপর আরোপ করা শুল্ক বাতিল করে রায় দেয়। তৎক্ষণাৎ এটিকে হতাশাজনক উল্লেখ করে পাল্টা ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের অধীনে বিশ্বব্যাপী পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প।
এই বিধানের আওতায় ১৫০ দিনের জন্য যে কোনো দেশের পণ্যে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা আছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের।





