ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চোরেরা মূলত তামার তার লক্ষ্য করে চুরি করছে। প্রথমে তারা মিটার বক্স বা খুঁটির ঝুলন্ত তারের কিছু অংশ কেটে পরীক্ষা করছে। সেটি তামার হলে পুরো সংযোগ কেটে নিয়ে যাচ্ছে, আর অ্যালুমিনিয়ামের তার হলে তা ফেলে রেখে যাচ্ছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে এ চুরি চালাচ্ছে।
ওজোপাডিকোর গ্রাহক সাতক্ষীরা শহরের কাজীপাড়া এলাকার একটি মাদ্রাসার পরিচালক নিজাম উদ্দিন জানান, প্রথম রমজানের রাতে মাদ্রাসার বিদ্যুতের তার চুরি হয়ে যায়। সকালে এসে দেখি পুরো সংযোগ বিচ্ছিন্ন।
একই এলাকার বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘সেহরির পর হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। মনে হয়েছিল লাইন নেই। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি চোরেরা সংযোগের তার কেটে নিয়ে গেছে।’
মুন্সিপাড়া এলাকার কবিরুল ইসলাম বলেন, ‘সেহরির সময় উঠে দেখি আমাদের বাসায় বিদ্যুৎ নেই, অথচ আশপাশের বাড়িতে আছে। পরে বুঝতে পারি চোরেরা তার চুরি করেছে।’
আরও পড়ুন:
এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগীরা একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন সাতক্ষীরা সদর থানায়।
হঠাৎ করে শহরে তার চুরি বেড়ে যাওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে ভীতি ও অনিশ্চয়তা কাজ করছে। অনেকেই রাত জেগে সংযোগ পাহারা দিচ্ছেন বলেও জানা গেছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান বলেন, ‘কয়েকজন গ্রাহক জিডি করেছেন। জিডির সূত্র ধরে পুলিশ চোরদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। যেসব এলাকায় চুরি হচ্ছে, সেসব এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে।’
অন্যদিকে ওজোপাডিকো সাতক্ষীরার আবাসিক প্রকৌশলী মো. শোয়াইব হোসেন বলেন, ‘জেলায় ওজোপাডিকোর গ্রাহক সংখ্যা ৫৮ হাজার ৫৯৮ জন। গত কয়েক মাস ধরে সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ করেই বিদ্যুতের তার চুরি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি গ্রাহকদের সচেতন করতে মাইকিং করা হচ্ছে।’
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, তামার তার চুরি রোধে ভাংড়ি ব্যবসায়ীদের নজরদারিতে আনা ও রাত্রীকালীন টহল আরও জোরদার করা না হলে শহরজুড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়বে এবং জনভোগান্তি আরও বাড়বে।





