আরও পড়ুন:
রমজান: খোদাপ্রেমের বিশেষ প্রশিক্ষণ (Training of God's Love)
রমজান মূলত মহান আল্লাহর প্রেমে বিভোর হওয়ার প্রশিক্ষণের মাস। প্রকৃত মুমিন কেবল জান্নাতের আশায় বা জাহান্নামের ভয়ে ইবাদত (Worship) করেন না; তিনি ইবাদত করেন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। রোজার প্রকৃত উদ্দেশ্যই হলো গভীর খোদাভীতি বা তাকওয়া (Taqwa) অর্জন করা। যে হৃদয় সর্বক্ষণ আল্লাহর স্মরণে ব্যাকুল, সে মন অন্যায়, ভয় ও স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে আল্লাহমুখী হয়ে ওঠে।
রোজার সামাজিক ও নৈতিক প্রভাব (Social and Moral Impact)
রোজার বাহ্যিক একটি বড় উপকার হলো এটি মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা (Empathy) জাগ্রত করে। ক্ষুধা ও তৃষ্ণার কষ্ট অনুভব করে মানুষ গরিব-দুঃখী ও নিঃস্বদের দুঃখ উপলব্ধি করতে শেখে। ‘রমজান’ শব্দটির শাব্দিক অর্থ দাহন বা পুড়িয়ে ফেলা। অর্থাৎ এই মাসে মানুষের অন্তরের কুপ্রবৃত্তিগুলোকে (Evil Desires) দহন করা হয়। সংযমের সাধনায় মানুষ হয়ে ওঠে নির্মল ও খাঁটি।
আরও পড়ুন:
কুরআনের আলোকে রোজার বিধান (Fasting in the Light of Quran)
মূল শিক্ষা (Key Lessons) তাৎপর্য (Significance) সংযম (Self-Restraint) খাদ্য, পানীয় ও কুপ্রবৃত্তি থেকে নিজেকে বিরত রাখা। তাকওয়া (Taqwa) সর্বদা আল্লাহর উপস্থিতির ভয় ও ভালোবাসা হৃদয়ে লালন করা। সহমর্মিতা (Sympathy) দরিদ্র ও ক্ষুধার্ত মানুষের কষ্ট অনুভব ও সাহায্য করা। কুরআন নাজিল (Revelation) রমজান হলো হেদায়েতের মাস ও কুরআন চর্চার সেরা সময়।
পবিত্র কুরআনের সূরা আল-বাকারার ১৮৩ নম্বর আয়াতে (Surah Al-Baqarah: 183) মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।” এতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে রোজা কঠোরতা নয়; এটি ভারসাম্যপূর্ণ সংযমের শিক্ষা।
রমজান কেবল খাদ্য ও পানাহার থেকে বিরত থাকার নাম নয়; এটি আত্মার জাগরণ ও চরিত্র গঠনের মাস। তাই প্রতিটি মুসলমানের উচিত রমজানকে কেবল একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে নয়, বরং আত্মশুদ্ধি ও আত্মউন্নয়নের (Self-development) এক সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা।
আরও পড়ুন:





