জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের রেখে যাওয়া অর্থনীতি ছিলো নানা সংকটে জর্জরিত। যা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। গত দেড় বছরে বড় ধরনের বিপর্যয় ঠেকানো গেলেও কাঙ্ক্ষিত গতি ফেরেনি এ খাতে।
এমন সময় জনতার ভোটে দেশের হাল ধরতে যাচ্ছে বিএনপি, যখন ব্যাংক খাতে অস্থিরতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বাজার সিন্ডিকেট এবং বিনিয়োগে ভাটা। নির্বাচিত সরকারের সামনে একদিকে যেমন রয়েছে সংকটের বিশাল পাহাড়, অন্যদিকে মাথায় প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বড় চাপ।
নতুন সরকারকে তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন, শুল্কহার কমানো, মূল্যস্ফীতি কমানো এবং কর্মসংস্থান বাড়াতে সংস্কার অব্যাহত রাখার তাগিদ এ অর্থনীতিবিদের।
পলিসি এক্সচেঞ্জ কমিশন চেয়ারম্যান ড. মাসরুর রিয়াজ বলেন, ‘এ অর্থনীতি ভেঙে পড়েছিলো তিনটি জায়গায় বিশেষ করে। ব্যাংকিং, অ্যানার্জি আর পাবলিক সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট। ব্যাংকিংয়ে লুটপাট অ্যানার্জিতে লুটপাট দৈনন্দিন ভিত্তিতে যে হতো এটিকে রোধ করা গেছে। কিন্তু সুশাসন এখনো রিস্টোর করা যায়নি। নতুন সরকারের প্রথম কাজ হবে সমষ্টি অর্থনীতির সুসংহত যে কাজ চলছে এটিকে আরও বেগবান করা।’
আরও পড়ুন:
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া ১৯ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ২২ লাখ কোটি টাকায়। অর্থাৎ অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে ঋণ নিয়েছে ৩ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি। যার ভার পুরোটাই বইতে হবে নির্বাচিত সরকারকে। প্রশ্ন হচ্ছে বৈদেশিক ঋণসহ দেশের অর্থনীতিতে যে চতুর্মুখি সংকট তৈরি হয়েছে তা একক কোনো সরকারের মোকাবিলা করা কতটুকু সম্ভব? যেখানে বিরোধী শিবিরে অবস্থান করছে জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখ ভাগের বড় একটা অংশ?
এ অর্থনীতিবিদ বলছেন, সংকট কাটাতে সহায়তার পাশাপাশি সরকারকে বাধ্য করার কাজটি করতে হবে বিরোধী দলকেই।
সিপিডি সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিরোধী দলের কাছেও একটি গঠনমূলক সমালোচনা এবং সরকারকেও তাদের পদক্ষেপের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, ব্যবসা বাণিজ্যর বিনিয়োগ ভালোভাবে করতে হবে।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, সিদ্ধান্ত যত পেছাবে ততই গতি হারাবে অর্থনীতি। তাই শপথ নেয়ার পরদিন থেকেই দ্রুততার সঙ্গে কাজ শুরু করতে হবে নির্বাচিত সরকারকে।





