নিজ ঘরেই সবচেয়ে বেশি অনিরাপদ শিশুরা: প্রতিবেদন

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি | ছবি: সংগৃহীত
2

বাংলাদেশে ২০২৫ সালে ১২৪ জন শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি ঘটনায় ঘাতক ছিলেন মা–বাবা বা নিকটাত্মীয়। শিশু অধিকার সংগঠন ‘শিশুরাই সব’-এর প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থা ‘শিশুরাই সব’-এর বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক বছরে দেশে ১২৪ জন শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। এসব হত্যাকাণ্ডের ৬৬ দশমিক ১২ শতাংশই ঘটেছে পারিবারিক পরিবেশে এবং অর্ধেকেরও বেশি ক্ষেত্রে ঘাতক ছিলেন খোদ মা-বাবা বা অত্যন্ত নিকটাত্মীয়।

সংস্থার গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণভিত্তিক প্রতিবেদনে জানানো হয়, নিহত ১২৪ জন শিশুর মধ্যে ৬৩ জন মেয়ে এবং ৫৯ জন ছেলে (২ জনের লিঙ্গ পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি)। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গড়ে প্রতি মাসে ১১ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এর মধ্যে শূন্য থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুরা ছিল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে; এই বয়সী ৬৪ জন শিশু হত্যার শিকার হয়েছে।

তথ্যমতে, ৩৮টি হত্যাকাণ্ডে সরাসরি মা-বাবা এবং ২৬টি ঘটনায় নিকটাত্মীয় জড়িত ছিলেন। অর্থাৎ ৫১ দশমিক ৬১ শতাংশ হত্যাকাণ্ডের জন্য পরিবারের সদস্যরাই দায়ী। এছাড়া প্রতিবেশী বা পরিচিতদের হাতে প্রাণ হারিয়েছে আরও ১৪ দশমিক ৫২ শতাংশ শিশু। এসব নৃশংসতার প্রধান কারণ হিসেবে পারিবারিক কলহ ও দ্বন্দ্বকে (৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ) চিহ্নিত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:

হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে শিশু যৌন নির্যাতন। ২০২৫ সালে ৩০৮টি যৌন নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৯০টি ঘটনা ঘটেছে। নির্যাতনের শিকার শিশুদের মধ্যে ৭ থেকে ১২ বছর বয়সীরা সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ৫৯ দশমিক ০৯ শতাংশ নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ব্যক্তিগত স্থানে—যেমন শিশুর নিজের ঘর বা অপরাধীর বাসায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অপরাধী ছিল শিশুর পূর্বপরিচিত প্রতিবেশী, আত্মীয় বা শিক্ষক।

প্রতিবেদনে বিচারহীনতার চিত্র উঠে এসেছে। ১২৪টি শিশু হত্যার ঘটনার মধ্যে মামলা হয়েছে মাত্র ৩৫টি। আর বছরজুড়ে মাত্র দুটি ঘটনায় অপরাধীর সাজা পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

শিশু নির্যাতন রোধ ও সুরক্ষায় ‘শিশুরাই সব’ সংস্থাটি সব প্রশাসনিক পর্যায়ে শাখাসহ একটি ‘জাতীয় শিশু কমিশন’ প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি, শিশু নির্যাতন মামলাগুলো দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের আওতায় এনে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দের সুপারিশ করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।


এএম