একই সাথে তেহরানের তেল বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং জাহাজে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। এমন প্রেক্ষাপটে আগামী সপ্তাহে আবারও আলোচনায় বসবে দুই পক্ষ। বাকিটা জানাবেন সতীর্থ কর্মকার।
মূলত পরমাণু ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে ওমানে উপস্থিত হন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আর ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার। কিন্তু এর সাথে ছিল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চলমান উত্তেজনা প্রশমনের একটি রোডম্যাপের কাঠামো নির্মাণের বিষয়টিও।
কিন্তু এতে সফল হয়নি কোনো পক্ষ। তেহরান বলছে, পরোক্ষ এই আলোচনা ইতিবাচক হলেও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে চলমান এই উত্তেজনা প্রশমনের সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব আসেনি। ওমানের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, বৈঠকের সূচনা আশানুরূপ হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহে আবারও আলোচনায় বসবে দুই পক্ষ। যদিও পরমাণু ইস্যু ছাড়া ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরান অন্য কোনো বিষয়ে আলোচনা করবে না বলে মন্তব্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর।
আরও পড়ুন:
তবে একদিকে আলোচনার কথা বলে অন্যদিকে ইরানের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধসিয়ে দেয়ার পথে হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা নির্বাহী আদেশে বলা হচ্ছে, ইরানের বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করতে পারে ওয়াশিংটন। তবে কোন দেশে কী পরিমাণ শুল্ক বসানো হবে তা স্পষ্ট হয়নি। আর ওমানের বৈঠক নিয়ে ট্রাম্প মন্তব্য করেছন, পরমাণু ছাড়াও অন্যান্য বিষয়ে ইরানের আলোচনা করতে না চাওয়ার দাবি অযৌক্তিক।
এখানেই শেষ নয়, তেহরানের তেল বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ১৫টি কোম্পানি, ২ কর্মকর্তা ও ১৪টি ছদ্মবেশী জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, অবৈধভাবে এই তেল বিক্রি করে ইরানকে সহায়তা করছে প্রতিষ্ঠানগুলো। ইরানের অবৈধ তেল ব্যবসা বন্ধ করতে ট্রাম্প বদ্ধ পরিকর বলেও জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
তবে এসবের মধ্যেও বাতিল হচ্ছে না সমঝোতার সম্ভাবনা। আপাতত তাড়াহুড়ো করতে রাজি নয় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র কোনো পক্ষই। মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পরমাণু আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। কিন্তু দেশের বড় কোনো স্বার্থের ব্যাপারে ওয়াশিংটনকে ছাড় দেবে না তেহরান।
এদিকে, আলোচনায় ফেরা ও কূটনৈতিক সমাধানে জোর দেয়ায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘ ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ।
এমন প্রেক্ষাপটে কাতারের দোহায় সফর করছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ট্রাম্পের স্বেচ্ছাচারীর বিরুদ্ধে আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থন আদায়ে সাক্ষাৎ করবেন কাতারি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে।





