রাশিয়ার তেল আমদানির জেরে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক গেল কয়েকমাস ধরেই ভঙ্গুর। এমনকি ভারতের ওপর শাস্তিমূলক অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শর্ত দেয়া হয় রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করলে এ অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে, এমনকি পূর্বের ২৫ শতাংশ শুল্কও কমিয়ে আনা হবে ১৮ শতাংশে।
এরই প্রেক্ষিতে সোমবার ট্রাম্প জানায় ভারত শর্ত মেনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের নির্বাহী আদেশে গতকাল স্থানীয় সময় (শুক্রবার, ৫ ফেব্রুয়ারি) স্বাক্ষর করেছেন ট্রাম্প, যা আজ (শনিবার, ৬ ফেব্রুয়ারি) থেকে কার্যকর হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সই করা নির্বাহী আদেশে দাবি করা হয়েছে, এ চুক্তির আওতায় ভারত সরাসরি কিংবা পরোক্ষ-কোনোভাবেই রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করতে পারবে না। বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কেনার অঙ্গীকার করেছে ভারত। এছাড়া আগামী ১০ বছরের জন্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে একটি বিশেষ কাঠামোতে কাজ করতে সম্মত হয়েছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র।
দুই সরকার একটি যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, কাঠামোটি একটি বৃহত্তর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির প্রতিফলন। আরও বলা হয়, এটি দুই দেশের জ্বালানি সম্পর্ক পুনর্গঠন করবে এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করবে। এছাড়াও আগামী পাঁচ বছরে পাঁচশো বিলিয়ন ডলারের মার্কিন জ্বালানি পণ্য, বিমান ও যন্ত্রাংশ, মূল্যবান ধাতু, প্রযুক্তি পণ্য এবং কয়লা কিনতে আগ্রহী ভারত।
আরও পড়ুন:
ভারত বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল বলেন, ‘ভারতের ১ কোটি ৪ লাখ জনগণের জ্বালানি চাহিদা পূরণ করা সরকারের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। একটি বস্তুনিষ্ঠ বাজার, পারিপার্শ্বিক ও পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্যকরণ আমাদের কৌশলের ভিত্তি।’
ভারত তেল আমদানির উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, যা তার চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ পূরণ করে। ২০২২ সালে মস্কো ইউক্রেন আক্রমণ করার পর থেকে এবং পশ্চিমা দেশগুলো তার জ্বালানি রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকে সস্তা রাশিয়ান তেল আমদানি খরচ কমাতে সাহায্য করেছে।
সম্প্রতি ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমিয়ে আনে। জানুয়ারিতে, এটি প্রতিদিন প্রায় ১ দশমিক ২ মিলিয়ন ব্যারেল ছিল। রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, ফেব্রুয়ারিতে এটি প্রায় ১ মিলিয়ন ব্যারেল এবং মার্চ মাসে ৮ লাখ ব্যারেল হ্রাস পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।





