Recent event

স্বর্ণ বেচতে গেলেই দাম কম? জানুন লোকসান এড়ানোর সহজ উপায়

স্বর্ণ বিক্রি
স্বর্ণ বিক্রি | ছবি: এখন টিভি
0

স্বর্ণকে বলা হয় ‘নিরাপদ বিনিয়োগ’ (Safe investment)। সংকটের সময়ে স্বর্ণের ওপর মানুষের আস্থা চিরকালীন। কিন্তু অনেকেই বিপাকে পড়েন যখন নিজেদের কেনা অলংকার বিক্রি করতে যান। দেখা যায়, বাজারদর চড়া থাকা সত্ত্বেও কেনা দামের চেয়ে বেশ কম মূল্যে স্বর্ণ বিক্রি করতে হচ্ছে। এর পেছনে লুকিয়ে আছে বাজারের কিছু অলিখিত নিয়ম ও গাণিতিক হিসাব।

স্বর্ণ ক্রয় বনাম বিক্রয়: খরচের তুলনামূলক চিত্র
ব্যয়ের খাত (Expense Sector) কেনার সময় (Buying) বিক্রির সময় (Selling)
স্বর্ণের মূল দাম (Gold Rate) বাজারদর অনুযায়ী প্রযোজ্য। বাজারদরের চেয়ে ৫-১০% কম।
মজুরি (Making Charge) ভরি প্রতি ২,০০০ - ১০,০০০ টাকা। সম্পূর্ণ বাদ (০ টাকা)।
সরকারি ভ্যাট (VAT) ৫% বাধ্যতামূলক। ফেরত পাওয়া যায় না।
পাথর বা ডাস্ট (Stone Weight) স্বর্ণের দামেই কিনতে হয়। ওজন থেকে বাদ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন:

মজুরি ও ভ্যাট ফেরত না পাওয়া (No refund on Making charge & VAT)

স্বর্ণের অলংকার কেনার সময় গ্রাহককে স্বর্ণের মূল দামের পাশাপাশি গয়নার মজুরি (Making charge) এবং সরকারি ভ্যাট (VAT) পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু বিক্রির সময় জুয়েলার্স মালিকরা কেবল স্বর্ণের বিশুদ্ধ ওজন বিবেচনা করেন। অলংকারের নকশা বা মজুরির টাকা তারা ফেরত দেন না, কারণ ওই অলংকারটি গলিয়ে আবার নতুন গয়না তৈরি করা হয়। ফলে শুরুতেই একটি বড় অংকের টাকা বাদ পড়ে যায়।

ক্যারেট ও বিশুদ্ধতার পার্থক্য (Difference in Carat & Purity)

সব স্বর্ণের মান এক নয়। ২২ ক্যারেট (22 Carat), ২১ ক্যারেট (21 Carat) বা ১৮ ক্যারেট—ক্যারেট যত কম হয়, তাতে স্বর্ণের সঙ্গে তামা বা অন্য ধাতুর মিশ্রণ তত বেশি থাকে। বিক্রির সময় ক্যারেট অনুযায়ী স্বর্ণের প্রকৃত ওজন (Actual gold weight) মেপে দাম নির্ধারণ করা হয়, যা কেনা দামের চেয়ে কম হওয়ার অন্যতম কারণ।

ব্যবহারজনিত ক্ষয় ও ওজন হ্রাস (Depreciation and Weight loss)

দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে অলংকারে ঘষা লেগে সূক্ষ্মভাবে ওজন কমে যেতে পারে। এছাড়া অলংকারে পাথর (Stone), পুঁতি বা মিনাকারি থাকলে বিক্রির সময় সেগুলোর ওজন সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে কেবল নিরেট স্বর্ণের হিসাব করা হয়। একে বাজারে ‘কাটছাঁট’ বলা হয়।

আরও পড়ুন:

বাজারদর ও জুয়েলার্সের ক্রয়মূল্য (Market rate vs Buying rate)

জুয়েলারি অ্যাসোসিয়েশন প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট দর নির্ধারণ করে দিলেও দোকানদাররা সাধারণত সেই দরের চেয়ে কিছুটা কম দামে (Buying at lower rate) স্বর্ণ কেনেন। এটি তাদের ব্যবসায়িক লাভ এবং ভবিষ্যতের বাজার ঝুঁকির সাথে সামঞ্জস্য করার একটি প্রক্রিয়া।

বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের সঠিক ধরন (Gold as an investment)

বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনি যদি কেবল বিনিয়োগের জন্য স্বর্ণ কিনতে চান, তবে অলংকার (Jewelry) না কিনে স্বর্ণের বার (Gold bar) বা কয়েন (Gold coin) কেনা বেশি লাভজনক। কারণ এতে মজুরি ও ভ্যাটের লোকসান থাকে না এবং বিক্রির সময় প্রায় পুরো বাজারমূল্যই পাওয়া যায়।

স্বর্ণ বিক্রিতে সর্বোচ্চ দাম পাওয়ার ৫টি গোপন টিপস (Tips for Getting Best Resale Value)

১. মেমো বা রসিদ সংরক্ষণ করুন (Keep the Original Memo): স্বর্ণ যে দোকান থেকে কিনেছেন, সেখানেই বিক্রির চেষ্টা করুন। মূল রসিদ দেখালে তারা নিজেদের স্বর্ণ চিনতে পারে এবং সাধারণত অন্যান্য দোকানের চেয়ে ভালো দাম দেয়। এছাড়া অনেক দোকান তাদের নিজস্ব স্বর্ণের ক্ষেত্রে 'কাটছাঁট' বা ডিডাকশন কম রাখে।

২. একাধিক দোকানে দর যাচাই (Compare Rates in Multiple Shops): একটি দোকানে দাম শুনেই বিক্রি করবেন না। অন্তত ৩-৪টি বড় জুয়েলারি শপে গিয়ে আপনার অলংকারের ওজন এবং ক্যারেট অনুযায়ী তারা কত দাম দেবে তা যাচাই করুন। এতে বাজারের প্রকৃত অবস্থা বুঝতে পারবেন।

৩. বাজার চড়ার জন্য অপেক্ষা করুন (Wait for High Market Rate): স্বর্ণের দাম প্রতিদিন ওঠানামা করে। যদি জরুরি প্রয়োজন না হয়, তবে যখন আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পায় এবং BAJUS নতুন রেট ঘোষণা করে, সেই সময়ে বিক্রি করুন।

৪. পাথর ও মিনা বাদ দিয়ে হিসাব (Separate Stone Weight): আপনার গয়নায় যদি পাথর বা কুন্দন থাকে, তবে বিক্রির আগে পাথরগুলো খুলে নেওয়ার অনুরোধ করুন অথবা পাথরের ওজন আলাদা করে স্বর্ণের নিরেট ওজন বুঝে নিন। মনে রাখবেন, পাথর স্বর্ণের দামে কেনা হলেও বিক্রির সময় তার কোনো মূল্য পাওয়া যায় না।

৫. হলমার্ক যাচাই (Check Hallmarking): আপনার স্বর্ণে যদি হলমার্ক (Hallmark) খোদাই করা থাকে, তবে আপনি আত্মবিশ্বাসের সাথে দামাদামি করতে পারবেন। এটি স্বর্ণের বিশুদ্ধতার প্রমাণ, ফলে দোকানদার ক্যারেট নিয়ে কারচুপি করার সুযোগ পাবে না।

আরও পড়ুন:

বিনিয়োগের জন্য কোন ক্যারেটের স্বর্ণ সেরা? (Best Carat for Investment)

বিনিয়োগের উদ্দেশ্য যদি হয় ভবিষ্যতে মুনাফা করা, তবে ক্যারেট নির্বাচন খুব গুরুত্বপূর্ণ:

২৪ ক্যারেট (24 Carat): এটি সবচেয়ে বিশুদ্ধ স্বর্ণ (৯৯.৯% খাঁটি)। বিনিয়োগের জন্য এটিই সেরা। এটি সাধারণত 'বার' বা 'কয়েন' আকারে পাওয়া যায়। এতে কোনো খাদ থাকে না এবং মজুরি খরচ নেই বললেই চলে, তাই বিক্রির সময় সর্বোচ্চ রিটার্ন পাওয়া যায়।

২২ ক্যারেট (22 Carat): যারা গয়নাও পরতে চান আবার বিনিয়োগও করতে চান, তাদের জন্য ২২ ক্যারেট ভালো। এটি অলংকার তৈরির জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয়। তবে বিক্রির সময় ৫-১০% দাম কম পাওয়া যায়।

২১ ও ১৮ ক্যারেট: এগুলো বিনিয়োগের জন্য একদমই ভালো নয়। এতে খাদের পরিমাণ বেশি থাকায় পুনঃবিক্রয় মূল্য (Resale Value) অনেক কম হয়।

একনজরে: বিনিয়োগ ও বিক্রয়ের জন্য স্বর্ণের ক্যারেট গাইড
স্বর্ণের প্রকার (Type) বিশুদ্ধতা (Purity) বিনিয়োগ উপযোগিতা
২৪ ক্যারেট (বার/কয়েন) ৯৯.৯% (সবচেয়ে খাঁটি) সেরা (সর্বোচ্চ লাভ)
২২ ক্যারেট (অলংকার) ৯১.৬% স্বর্ণ + ৮.৪% খাদ মাঝারি (ব্যবহার + সঞ্চয়)
১৮ ক্যারেট (ডায়মন্ড বেইজ) ৭৫.০% স্বর্ণ + ২৫% খাদ দুর্বল (বিনিয়োগে লোকসান)




এসআর