শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু চি'র সরকারকে উৎখাত করে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের চার বছরের বেশি সময় পর, প্রথম নির্বাচন মিয়ানমারে। ২৮ ডিসেম্বর শুরু হয়ে তৃতীয় ও চূড়ান্ত ধাপে ভোটগ্রহণ শেষ হয় ২৫ জানুয়ারি।
বৃহস্পতি ও শুক্রবার প্রকাশিত ফলে দেখা যায়, ভোটের সব ধাপেই একক আধিপত্য সেনা সমর্থিত ইউনিয়ন অ্যান্ড সলিডারিটি পার্টি- ইউএসডিপি'র। ফলে পার্লামেন্টের দু'কক্ষেই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা এই একটি দলেরই। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বলা হয়, গৃহযুদ্ধ, ব্যাপক দমনপীড়ন আর কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ভোটের এমন ফলই ছিল প্রত্যাশিত।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মার্চে পার্লামেন্টে বসতে পারে অধিবেশন। নতুন সরকার ক্ষমতা নেবে এপ্রিলে। জান্তা মুখপাত্রের বরাত দিয়ে, তথ্য সেনাসমর্থিত ইলেভেন মিডিয়া গ্রুপের। ভোটের মধ্য দিয়ে সেনাবাহিনীর ক্ষমতাই আরও পোক্ত হওয়ায় একে প্রহসনের নির্বাচন আখ্যা দিচ্ছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও কিছু পশ্চিমা দেশসহ সমালোচকরা। আপাতত নির্বাচনকে স্বীকৃতি দেবে না বলে জানিয়েছে আঞ্চলিক জোট আসিয়ান।
ফিলিপাইনের আসিয়ান চেয়ার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী থেরেসা লাজারো বলেন, ‘আমরা মিয়ানমারের ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা করেছি। পাঁচ দফা ঐক্যমত্য বাস্তবায়নে কাজ এগোনোর বিষয়েও আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোনো অর্থবহ রাজনৈতিক অগ্রগতি কেবল শান্তি, নিরাপত্তা আর অন্তর্ভুক্তির পরিবেশে সম্ভব। এজন্য সহিংসতা বন্ধ এবং সকল প্রাসঙ্গিক অংশীদারদের অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপের বিকল্প নেই। এসব বিষয় অনুপস্থিত থাকায় এই নির্বাচন অনুমোদনে ঐক্যমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।’
আরও পড়ুন:
নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও জনসমর্থিত বলে দাবি মিয়ানমার সেনাবাহিনীর। যদিও সহিংস পরিস্থিতি আর অনেক এলাকায় ভোট বাতিলের জেরে ভোটার উপস্থিতি ছিল সর্বনিম্ন । সু চি'র ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি- এনএলডিসহ অনেকগুলো দলকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে অংশ নিতে দেয়া হয়নি নির্বাচনে।
মিয়ানমারের রাজনৈতিক ব্যবস্থার অধীনে, পার্লামেন্টের ২৫ শতাংশ আসন আগে থেকেই সেনাবাহিনীর জন্য বরাদ্দ। এ নিয়মের ফলে বেসামরিক সরকার দায়িত্ব পেলেও ক্ষমতায় নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকবে সেনাবাহিনীর। দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশটিতে কয়েক দশক সেনাশাসনের পর, সেনাবাহিনীর ছায়া হিসেবে কাজ করার লক্ষ্যে ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ইউএসডিপি। অবসরপ্রাপ্ত এক ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের নেতৃত্বে এবং অন্যান্য সাবেক শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে দলটি পরিচালিত। এবারের নির্বাচনে অংশ নেয়া মোট প্রার্থীর পাঁচ ভাগের এক ভাগই ছিল ইউএসডিপি'র। ধারণা করা হচ্ছে, পরবর্তী সরকারেও কেন্দ্রীয় ভূমিকায় থাকবেন সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং। সতর্কতার সঙ্গে মিয়ানমারের পরবর্তী সরকারের সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব প্রতিবেশি থাইল্যান্ডের।
থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকিতকিয়াউ বলেন, ‘আমরা মনে করি নেপিদোর নতুন সরকারের সঙ্গে আমাদের যুক্ত হতে হবে। তারা সম্ভবত মার্চ মাসে একটি সরকার গঠন করতে চলেছে, একইসঙ্গে এখনও সক্রিয় রয়েছে। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গেও সম্পর্ক রাখতে হবে আমাদের। সবমিলিয়ে অত্যন্ত সতর্কভাবে মিয়ানমারের পরবর্তী সরকারের সঙ্গে কাজ করার কথা ভাবছি আমরা।’
২০২১ সালের সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকেই আর্থ-রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে মিয়ানমার। বেসামরিক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবিতে দেশজুড়ে গণতন্ত্রপন্থিদের বিদ্রোহ কঠোরভাবে দমন করেছে সামরিক শাসকগোষ্ঠী। জাতিসংঘের তথ্য, সংঘাতে বাস্তুচ্যুত প্রায় ৩৬ লাখ মানুষ।




