গৃহযুদ্ধে বন্ধ সুদানের স্কুল, বঞ্চিত ৮০ লাখ শিশু

সুদানের ক্ষুধার্ত শিশুরা
সুদানের ক্ষুধার্ত শিশুরা | ছবি: সংগৃহীত
0

প্রায় ৩ বছরে গড়ানো গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত সুদানের শিক্ষাখাত। সেভ দ্য চিলড্রেন বলছে, সংঘাত-সহিংসতায় প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বঞ্চিত হচ্ছে ৮০ লাখেরও বেশি শিশু। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতির আরও অবনতির শঙ্কা সংস্থাটির।

দিন, মাস পেরিয়ে কয়েক বছর; সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সংকট ভারী হচ্ছে গৃহযুদ্ধ কবলিত সুদানে। একদিকে, দেশটির আধা-সামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস আরএসএফের হামলার শঙ্কা, অন্যদিকে ক্ষুধার যন্ত্রণা, পর্যাপ্ত শিক্ষা ও চিকিৎসা সংকট সব মিলিয়ে দুঃখ-দুর্দশার অন্ত নেই সুদানের বাস্তুচ্যুতদের।

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় অফিসের তথ্যমতে, সুদানের ৩ কোটিরও বেশি মানুষের জরুরি ভিত্তিতে মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। সবচেয়ে বেশি ভয়াবহ অবস্থা দারফুর ও কর্দোফান অঞ্চলে।

গেল বৃহস্পতিবার সুদানের মানবিক সংকট নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে সেভ দ্য চিলড্রেন। সংস্থাটি জানায়, স্কুল বন্ধের সময়সীমা বিবেচনায় কোভিড মহামারিকে ছাড়িয়ে গেছে সুদান। ২০২৩ সালের এপ্রিলে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর প্রায় ৪৮৪ দিন ধরে বন্ধ সুদানের বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিখন কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত দেশটির ৮০ লাখেরও বেশি শিশু।

আরও পড়ুন:

সেভ দ্য চিলড্রেনের শঙ্কা এখনই উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিলে একটি পুরো প্রজন্ম শিক্ষার আলো থেকে হারিয়ে যাবে। এরই মধ্যে পড়াশোনা ছেড়ে জীবিকা নির্বাহের পথ বেছে নিয়েছে অনেক শিশু।

এদিকে, জীবন বাঁচাতে গৃহস্থালির বাইরেও কাজ শুরু করেছেন নারীরা। পুরুষতান্ত্রিক বাধ্যবাধকতা ভুলে বাস্তুচ্যুত মায়েরা সন্তানের মুখে দু-মুঠো খাবার তুলে দিতে প্রখর রোদেও কাজ করছেন। তবুও দিন শেষে বঞ্চিত হচ্ছেন পর্যাপ্ত মজুরি থেকে।

সুদানে সেনাবাহিনী ও আধা-সামরিক আরএসএফের মধ্যকার চলমান সংঘাতের কারণে ভিটেমাটি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত আনুমানিক ১ কোটি ৩৬ লাখ মানুষ। এ সময়ে প্রাণ হারিয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। এছাড়া, ভয়াবহ যৌন সহিংসতার শিকার হয় অনেক নারী।

এএম