৪ দশকের মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় চিড়েচ্যাপটা ইরানের অর্থনীতি। যুক্তরাষ্ট্রের হাত ধরে শুরু হলেও পরে জাতিসংঘসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নিষেধাজ্ঞায় পড়ে ইরান। এসব নিষেধাজ্ঞার মূল টার্গেট ছিল ইরানের জ্বালানি, নৌপরিবহণ ও আর্থিক খাত। এতে দেশটির জ্বালানি তেলের রাজস্ব আয় ঠেকেছে তলানিতে। এছাড়া বিদেশে সম্পদ জব্দ ও বাণিজ্য সীমিত করায় ধুঁকছে ইরানের অর্থনীতি।
সম্প্রতি অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদ দ্রুতই রূপ নেয় সরকারিরোধী আন্দোলনে। এর জেরে তেহরানে ক্রমাগত হামলার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রভাবে নাকাল ইরানি জনগণ।
এমন অবস্থায়, দেশটির সীমান্তবর্তী প্রদেশের গভর্নর ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে নিত্যপণ্যের প্রবাহ নিশ্চিতে টাস্ক ফোর্স গঠন করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। এ সময় বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়াই পণ্য আমদানির ক্ষমতা দেয়া হয়েছে গভর্নরদের।
আরও পড়ুন:
তবে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের পতন ঘটেছে রেকর্ড পরিমাণে। ১ ডলারের বিনিময়ে মিলছে ১৬ লাখ ইরানি রিয়াল। একদিনের ব্যবধানে দেশটির মুদ্রার দরপতন হয়েছে প্রায় দেড় লাখ রিয়াল।
এদিকে, টানা তিন সপ্তাহ ধরে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে বিপাকে পড়েছেন দেশটির অনলাইন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। আটকে আছে বহু প্রতিষ্ঠানের অনলাইন কার্যক্রম। বন্ধ হয়ে গেছে বিকল্প আয়ের পথও। নতুন করে অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন বহু বাসিন্দা।
অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক ধীরে ধীরে সচল হলেও, বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট সুবিধা এখনো চালু হয়নি। সরকারি ওয়েবসাইট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনলাইন প্লাটফর্মগুলো সীমিত অ্যাক্সেসের অনুমতি পাচ্ছে। তবে প্রবাসে থাকা ইরানিরা তাদের পরিবারের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করতে পারছে না। তাদের প্রিয়জনরা বেঁচে আছেন কিনা সে খবরও পাচ্ছেন না তারা।
সারাদেশে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ দমাতে গেল ৮ জানুয়ারি থেকে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেয় ইরান সরকার। পরিস্থিতি শান্ত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় খামেনি প্রশাসন। সরকারের এমন সিদ্ধান্তে হতাশ ইরানিরা।





