গ্রিনল্যান্ড নিরাপত্তা ইস্যুতে যে কারো সঙ্গে আলোচনায় যেতে প্রস্তুত ডেনমার্ক

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্রিনল্যান্ড বিক্রি করবে না ডেনমার্ক
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্রিনল্যান্ড বিক্রি করবে না ডেনমার্ক | ছবি: সংগৃহীত
0

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে গুরুতর পরিস্থিতির মধ্যে আছেন বলে জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী। গ্রিনল্যান্ড বিক্রি বা সার্বভৌমত্ব নয়, বরং নিরাপত্তা ইস্যুতে যে কারো সঙ্গে আলোচনায় যেতে প্রস্তুত ডেনমার্ক। যদিও ট্রাম্প বলছেন দ্বীপটিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব বজায় রাখা হবে। এদিকে, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তায় সামরিক মহড়া চালিয়ে যাচ্ছে ডেনিশ সেনারা।

গ্রিনল্যান্ড থেকে নজর সরছেই না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সামরিক অভিযান বা বল প্রয়োগের পরিকল্পনা থেকে সরে আসলেও, এই অঞ্চলে আধিপত্য ধরে রাখতে মরিয়া তিনি। ন্যাটো মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠকের পর গ্রিনল্যান্ড এবং বৃহত্তর আর্কটিক অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি কাঠামোগত চুক্তি তৈরির কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এবার নতুন করে গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সার্বভৌমত্বের দাবি জানালেন ট্রাম্প। বিশেষ করে, দ্বীপটির যেসব অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আছে, সেসব অঞ্চলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব থাকবে। নিউইয়র্ক পোস্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যা চায় তা অর্জন করে ছাড়বে।

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বার বার বলে আসছেন, সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অংশ এবং ডেনিশ সরকার ছাড়া অন্য কেউ গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে কোনো ধরনের চুক্তি করতে পারবে না।

আরও পড়ুন:

তবে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রাসী মনোভাবে চাপে আছে ডেনমার্ক। বিশ্বের বৃহত্তম এই দ্বীপটির প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র নীতি ডেনিশ সরকারের ওপর নির্ভরশীল। এমন অবস্থায় গ্রিনল্যান্ড সফরে গিয়ে ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডেরিকসেন বলেন, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়।

এদিকে, গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তায় এরইমধ্যে নিজেদের প্রস্তুত করছে ডেনমার্কের সেনাবাহিনী। বিমানে করে গ্রিনল্যান্ডের নুক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে ডেনিশ সেনাদের একটি দল। তারা জানিয়েছে আর্কটিক এন্ডুরেন্স নামে একটি মহড়ার অংশ হিসেবে তারা প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছে।

এ সময় দেখা যায় বরফ আচ্ছাদিত ভূমিতে গুলিসহ সামরিক অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছে সেনারা। আর্কটিক ও গ্রিনল্যান্ডের সুরক্ষায় এই দ্বীপে অতিরিক্ত সেনা পাঠিয়েছে ডেনমার্ক। গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে যেকোনো আলোচনার জন্য প্রস্তুত আছে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড।

ট্রাম্প অভিযোগ করে আসছেন, ডেনমার্কের হাতে গ্রিনল্যান্ড সুরক্ষিত নয়। চীন বা রাশিয়ার আধিপত্য ঠেকানোর সক্ষমতাও ডেনিশ সরকারের নেই। এই অঞ্চলকে একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রই নিরাপদ রাখতে পারবে।

ইএ