অধিকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে সশস্ত্র আক্রমণ ও দখলদারিত্ব চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা। জোরপূর্বক দখল করছে ফিলিস্তিনিদের চারণভূমি। চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে তাদের গবাদি পশু। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে হামলা চালাচ্ছে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা। তাদের আক্রমণে ঘরছাড়া হয়েছে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি।
রামাল্লাহর পশ্চিমে শুকবা শহরে ইসরাইলি সেনাবাহিনী বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে ফেলছে ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি। এ সময় বাসিন্দারা নির্বিকার দাড়িয়ে ছিল। সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতেই এ ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। গত বছর অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ১৪শ'র বেশি ঘরবাড়ি ও স্থাপনা ধ্বংস করে ইসরাইলিরা। এছাড়া, জীবিকার উৎসসহ প্রায় ৫শ' কৃষিক্ষেত্র দখল ও নষ্ট করেছে তারা।
ইসরাইলি সেনা ও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের আক্রমণের মুখে পালিয়ে বেড়াচ্ছে অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি বেইদুইন সম্প্রদায়। মাতৃভূমি ছেড়ে যাচ্ছেন বাসিন্দারা। গৃহহীন হয়ে পড়েছে প্রায় পুরো গ্রাম। বেদুইন রাখাল সম্প্রদায়ের পরিবারগুলো শেষ সম্বল নিয়ে চলে যাচ্ছে অন্য জায়গায়।
আরও পড়ুন:
গাজা যুদ্ধ শুরুর পর তাদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়েছে। বাসিন্দাদের ঘুমন্ত অবস্থায় ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় ইসরাইলিরা। বিষ প্রয়োগে মেরে ফেলা হচ্ছে তাদের গবাদি পশু। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, যাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই কেবল তারাই মৃত্যু ভয়ের মধ্যেও বাধ্য হয়ে থেকে যাচ্ছেন পশ্চিম তীরে। ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে বেদুইনদের জীবনধারা। তাদের সংস্কৃতি ও পরিচয় মুছে এরইমধ্যে মুছে গেছে।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতি স্থাপনকে আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ বলে মনে করে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ ও মানবাধিকার সংগঠন। তবে ইসরাইলের দাবি, এই ভূমির সঙ্গে তাদের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে।





