ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির জবাবে ইউরোপমুখী নয়াদিল্লি

ইইউ ও ইন্ডিয়ার পতাকা
ইইউ ও ইন্ডিয়ার পতাকা | ছবি: সংগৃহীত
0

যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্তি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের পথে এগোচ্ছে ভারত। এরই মধ্যে এটিকে ‘মাদার অব অল ডিলস’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিশ্লেষকরা। এছাড়াও, বর্তমান ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক জটিলতার মধ্যেই চুক্তিটি ইতিবাচক হবে বলে মনে করেন তারা। এটি বাস্তবায়ন হলে দুই পক্ষের প্রায় ২০০ কোটি মানুষের মুক্তবাজার তৈরি হবে।

শুল্ক বাণে বিশ্বকে কোণঠাসা রাখতে ব্যস্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কখনও ইউরোপ, কখনো ভারত, ট্রাম্পের অতিরিক্ত শুল্কারোপের হুমকি থেকে বাদ যাচ্ছে না কোনো দেশই।

গেল বছরে রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনার জেরে ভারতীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক বসায় ট্রাম্প প্রশাসন। এছাড়া, সম্প্রতি গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ইউরোপের ৮ দেশের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকিও দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পরে অবশ্য ন্যাটো মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন ট্রাম্প।

শুল্ক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমাগত হুমকির মুখে এবার ইইউয়ের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের পথে এগোচ্ছে ভারত। এরই মধ্যে নয়াদিল্লির আমন্ত্রণে ভারত সফরে এসেছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরজুলা ভন ডার লায়েন ও কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা। সোমবার ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন তারা। এছাড়া, ৩ দিনের ভারত সফরে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও বৈঠক করবেন ইইউ প্রতিনিধি দল।

সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৭ জানুয়ারি ২০ বছর ধরে ঝুলে থাকা ইইউ- ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করবে দুই পক্ষ। এরই মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তিটিকে মাদার অব অল ডিলস হিসেবে উল্লেখ করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা জানান, এটি স্বাক্ষর হলে, ইউরোপের গাড়ি ও ওয়াইন এবং ভারতের ইলেকট্রনিক্স, টেক্সটাইল ও রাসায়নিক শিল্প নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে।

ভারতের বাণিজ্য নীতি বিশেষজ্ঞ অভিজিত দাস বলেন, ‘ভারতের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি বড় বাণিজ্য অংশীদার। বর্তমানে যেকোনো চুক্তি উভয় পক্ষের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও বেশি গভীর ও সুসংহত করবে। এছাড়া, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমাগত হুমকির ফলে বিশ্বে যে বাণিজ্য অস্থিরতা তৈরি হয়েছে তা নিরসনে সম্ভাব্য চুক্তিটি ইতিবাচক।’

আরও পড়ুন:

এছাড়া, বিশ্লেষকদের অভিমত, ভারত বিশ্বকে বার্তা দিতে চাইছে, তাদের অর্থনীতি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল নয়।

বর্তমানে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ভারত। ইউরোপ চায় ভারতের ক্রমবর্ধমান বাজারে নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান গড়তে। বিবিসি জানায়, দুই পক্ষ এক হলে প্রায় ২০০ কোটি মানুষের মুক্ত বাজার তৈরি হবে।

২০২৫ সালে ভারত ইউরোপে প্রায় ৭৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে। বিপরীতে, আমদানি করে ৬২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

তবে সম্ভাবনার বিপরীতে রয়েছে কিছু সংশয়। কেননা নয়াদিল্লি কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যকে চুক্তি থেকে বাইরে রাখতে চায়। অন্যদিকে, ইউরোপ পরিবেশ সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে কার্বন ট্যাক্স চালু করেছে। যা ভারতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে।

এএম