ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দাবি করেছে, বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্টরা যখন একজন ‘অবৈধ অভিবাসীকে’ গ্রেপ্তারের অভিযানে ছিলেন, তখন নিহত ব্যক্তি ৯ মিমি সেমি-অটোমেটিক হ্যান্ডগান নিয়ে তাদের দিকে এগিয়ে আসেন। এজেন্টরা তাকে নিরস্ত্র করার চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তি শুরু হয় এবং এক পর্যায়ে আত্মরক্ষার্থে এজেন্টরা গুলি চালান।
তবে ঘটনার পর ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ফেডারেল এজেন্টরা এক নারীকে ধাক্কা দিলে ওই ব্যক্তি সেখানে এগিয়ে যান এবং এক পর্যায়ে ছয়জন মাস্ক পরা এজেন্ট তাকে মারধর করে গুলি করেন। মিনিয়াপলিস পুলিশ প্রধান ব্রায়ান ও’হারা জানিয়েছেন, নিহত ব্যক্তি শহরের একজন বৈধ বাসিন্দা এবং তার কাছে অস্ত্র বহনের বৈধ পারমিট ছিল।
ট্রাফিক টিকিট ছাড়া তার আর কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই। পুলিশের এই বক্তব্য ফেডারেল সংস্থা ডিএইচএসের দাবিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিনেসোটার ডেমোক্রেটিক গভর্নর টিম ওয়ালজ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক যুদ্ধ শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন:
এদিকে, গভর্নর ওয়ালজ এই ঘটনাকে ‘ন্যক্কারজনক’ আখ্যা দিয়ে সরাসরি হোয়াইট হাউসকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন মিনেসোটা থেকে অবিলম্বে ফেডারেল এজেন্টদের সরিয়ে নেয়া হয়। তিনি ঘোষণা করেছেন, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ফেডারেল সরকার নয়, বরং রাজ্য সরকার পরিচালনা করবে।
অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে নিহতের বন্দুকের ছবি পোস্ট করে দাবি করেছেন, ওই ব্যক্তি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। তিনি মিনিয়াপলিসের মেয়র এবং গভর্নরকে ‘বিদ্রোহ উসকে দেয়ার’ অভিযোগে অভিযুক্ত করে রাজনৈতিকভাবে আক্রমণ করেছেন।
শনিবার দুপুর থেকেই মিনিয়াপলিসের রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে নেমেছেন। বিক্ষোভকারীরা ফেডারেল এজেন্টদের ‘কাপুরুষ’ এবং ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে স্লোগান দেয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফেডারেল এজেন্টরা টিয়ার গ্যাস এবং স্মোক বোম্ব ব্যবহার করেছেন। উত্তেজনার মুখে শনিবার রাতে নির্ধারিত মিনেসোটা টিম্বারউলভসের এনবিএ বাস্কেটবল ম্যাচটি স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
শহরের মেয়র জ্যাকব ফ্রে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘একটি আমেরিকান শহরকে তার নিজের দেশের ফেডারেল সরকার এভাবে আক্রমণ করতে পারে না।’ পরিস্থিতি এখনো থমথমে এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।





