সোমালিল্যান্ড স্বীকৃতি না দিলেও ‘ডাবল গেম’ খেলছে লন্ডন

বারবারা বন্দর
বারবারা বন্দর | ছবি: সংগৃহীত
0

সোমিল্যান্ডকে স্বীকৃতি না দিলেও, অঞ্চলটির সরকার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বারবারা বন্দরে ব্যবসা পরিচালনা করছে যুক্তরাজ্য। অভিযোগ রয়েছে, সমুদ্রপথটি দিয়ে সুদানের আধা-সামরিক বাহিনী আরএসএফকে অস্ত্র সরবরাহ করে দুবাই। বিশ্লেষকরা সোমালিয়া ও সুদান ইস্যুতে ব্রিটেনের এ ভূমিকাকে ডাবল গেম বলে উল্লেখ করেছেন। যদিও লন্ডন জানায়, সুদানের চলমান গৃহযুদ্ধের অবসান ও শান্তি চায় ব্রিটেন সরকার।

গেল মাসে বিশ্বের একমাত্র দেশ হিসেবে সোমালিল্যান্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয় ইসরাইল। যা বিশ্বে জন্ম দেয় নতুন উত্তেজনার। সেসময় তেলআবিবের এমন পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্র ব্যতীত নিন্দা জানায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্র।

তবে এবার হর্ণ অব আফ্রিকায় উত্তেজনা ছড়ানোর তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাজ্যের নাম। সম্প্রতি এটি নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আল-জাজিরা। গণমাধ্যমটি জানায়, সুদান ও সোমালিল্যান্ড ইস্যুতে ডাবল গেম খেলছে লন্ডন।

কাগজে কলমে সোমালিয়াকে স্বীকৃতি দিলেও, দেশটি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া সোমালিল্যান্ডের সরকার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বারবারা বন্দরে যৌথ ব্যবসা পরিচালনা করছে যুক্তরাজ্য। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর খবর, এই পানিপথ দিয়ে সুদানের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরএসএফকে অস্ত্র সরবরাহ করে আরব আমিরাত। দীর্ঘদীন থেকেই দেশটির বিরুদ্ধে সুদানের র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে মদদ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। যদিও এটি বরাবরই অস্বীকার করে আসছে দুবাই।

আরও পড়ুন:

কৌশলগত কারণে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বার। বন্দরটি লোহিত সাগর ও ভারত মহাসাগরের সঙ্গে সংযোগকারী বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডরগুলোর একটি। বিশ্লেষকদের অভিমত, এটি শুধু অর্থনৈতিক সম্পদের ক্ষেত্র নয়, বন্দরটি নিরাপত্তা ও বাস্ত্যুসংস্থানের অন্যতম রুট।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর খবর, এই পানিপথ দিয়ে সুদানের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরএসএফ কে অস্ত্র সরবরাহ করে আরব আমিরাত। দীর্ঘদীন থেকেই দেশটির বিরুদ্ধে সুদানের র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে মদদ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। যদিও এটি বরাবরই অস্বীকার করে আসছে দুবাই।

বিশ্লেষকদের অভিমত, সুদান ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের বিতর্কিত ভূমিকা দেশটিকে মধ্যস্ততাকারী নয় বরং সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত করছে। এছাড়া, দারফুর ও আল-ফাশেরে আরএসএফের ভয়াবহ গণহত্যার বিরুদ্ধে খুব একটা সোচ্চার ছিল না লন্ডন। এটি নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে আল-জাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ভিন্ন কথা জানায় যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর। লন্ডন জানায়, সুদানে চলমান সহিংসতা বন্ধে মিত্র ও অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে ব্রিটেন।

১৯৯১ সালে সোমালিয়ার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করে সোমালিল্যান্ড। এরপর থেকেই ভূখন্ডটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও বৈদেশিক সাহায্য থেকে বঞ্চিত। সোমালিল্যান্ডের অর্থনীতির একটি বড় অংশ আসে বন্দরটি থেকে। ১৯৯২ সালে সোমালিল্যান্ডের অন্তর্বর্তী সরকার বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বারবারার নিয়ন্ত্রণ নিতে চেয়েছিল। পরে স্থানীয় গোষ্ঠী এটিতে বাধা দিলে আপসের মাধ্যমে সংঘাতের সমাধান হয়।

এএম