চারপাশ ছেয়ে গেছে লাল, গোলাপি হলুদসহ বাহারি রঙের টিউলিপে। একটি নয় দুটো নয় গুণে গুণে ২ লাখ টিউলিপ ফুলে সাজানো নেদারল্যান্ডসের রাজধানী আমস্টারডামের মিউজিয়াম স্কয়ার।
শনিবার শীতের আড়মোড়া কাটিয়ে আগাম বসন্ত বরণের অংশ হিসেবে ঐতিহ্য মেনে জাতীয় টিউলিপ দিবস উদযাপন করেন ডাচরা। রীতি অনুযায়ী, প্রতি বছরের জানুয়ারির তৃতীয় শনিবার ব্যাপক উৎসাহ - উদ্দীপনার মাধ্যমে এটি পালন করে নেদারল্যান্ডসবাসী। এতে আগতরা সুযোগ পান বিনামূল্যে অন্তত ১০ টি করে ফুল সংগ্রহ করতে।
এবারও বর্ণিল মুহূর্তটিকে উপভোগ করতে মিউজিয়াম স্কয়ারে ভিড় জমায় আমস্টারডামের নানা প্রান্তের মানুষ। বিভিন্ন রঙের আতশবাজির মাধ্যমে উৎসবের উদ্বোধন হয়। রোদ ঝলমলে নীল আকাশ ধারণ করে রংধনুর সাত রঙ। মুহূর্তগুলোকে ক্যামেরাবন্দি করার পাশাপাশি ফুল সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েন দর্শনার্থীরাও।
আরও পড়ুন:
একজন বলেন, ‘এটা ডাচ সংস্কৃতির অংশ। প্রথমবারের মতো উৎসবটিতে আসলাম। ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ নিতে পেরে ভালো লাগছে।’
আরেকজন বলেন, ‘আমি ফুল ভালোবাসি। তাই এখানে এসেছি। এটি এমন একটি উৎসব যেখানে ফুল কিনতে অর্থ লাগে না। মনে হচ্ছে লটারি জিতেছি।’
আয়োজকদের কণ্ঠেও ছিল উৎসবটি ঘিরে উৎসাহ- উদ্দীপনার কথা। তাদের একজন বলেন, ‘প্রকৃতিতে শীত থাকলেও, আগাম বসন্তের হাওয়ায় মেতেছে শহরবাসী। এরইমধ্যে দোকানিরা নিজেদের দোকানিগুলো ফুলে ফুলে সাজাতে শুরু করেছে।’
ডাচদের কাছে বসন্ত বরণের অন্যতম অনুষঙ্গ টিউলিপ ফুল। প্রতিবছর মার্চ থেকে মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত নেদারল্যান্ডসের কেউকেনহফে সবচেয়ে বড় ফুল প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এসময় পার্কটির ৩২ হেক্টর বিশাল এলাকা পরিপূর্ণ থাকে টিউলিপ, ড্যাফোডিলসহ অন্যান্য ফুলে। ভ্রমণপিপাসুরা বসন্তের সময়টিতে সুযোগ পান ফুলের রাজ্যটিতে হেঁটে কিংবা সাইকেলে করে ঘুরে বেড়াতে। এছাড়া, পুরো বসন্ত জুড়ে টিউলিপকে ঘিরে ডাচদের থাকে ব্যতিক্রমী সব আয়োজন।
বিশ্বের টিউলিপ ফুল উৎপাদনের তালিকায় শীর্ষে নেদারল্যান্ডস। ২০২৫ সালে ২০ লক্ষ টিউলিপ উৎপাদন করে দেশটি।





