পুলিশের সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম সুরাইয়া এবং আসামি ডালিয়া সম্পর্কে চাচাতো বোন। অপর আসামি আব্দুল লতিফ ডালিয়ার স্বামী। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ভিকটিমের দাদা-দাদি আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ও সহজ-সরল হওয়ায় আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশে একটি ভুয়া অপহরণের ছক কষে।
ঘটনার দিন আসামি ডালিয়া ভিকটিম সুরাইয়াকে নিয়ে নির্ধারিত স্থানে আব্দুল লতিফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। পরে একটি পরিত্যক্ত ঘরে ডালিয়া সুরাইয়াকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে রেখে যায়। রাতের বেলায় তারা সেখানে ফিরে এসে সুরাইয়াকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। এরপর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ভিকটিমের মরদেহ স্থানীয় একটি পুকুরে ফেলে দেয়।
আরও পড়ুন:
পরে গত ১৭ জানুয়ারি আব্দুল লতিফের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে ভিকটিমের দাদার কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত আসামি আব্দুল লতিফ (জন্তিহার, ফরিদপুর) এবং ডালিয়া (ভিকটিমের চাচাতো বোন ও লতিফের স্ত্রী)–কে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনুল রহমান জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, নিহত শিক্ষার্থী সুরাইয়া খাতুন (১৩)। সে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী এবং ফরিদপুর উপজেলার বিএল বাড়ি ইউনিয়নের জন্তিহার গ্রামের মো. স্বপন খানের মেয়ে। গত ১৩ জানুয়ারি বিকেলে সুরাইয়া নিজ বাড়ির সামনে থেকে নিখোঁজ হয়। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় ১৬ জানুয়ারি তার দাদা মো. আব্দুল জব্বার খান ফরিদপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। নিখোঁজের পাঁচ দিন পর একটি বিলের মধ্যে থেকে হাত পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার হয়।





