দাবানলে পুড়ছে চিলি; ১৮ জনের প্রাণহানি

সরানো হয়েছে ৬০ হাজারের বেশি বাসিন্দা

চিলির দাবানল
চিলির দাবানল | ছবি: সিএনএন
0

দুই ডজনের বেশি সক্রিয় দাবানলে পুড়ছে চিলির দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চল। এতে এখনও পর্যন্ত ১৮ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। দাবানলের কবলে পড়া দুই প্রদেশে জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা। গেল তিন দিনে সরিয়ে নেয়া হয়েছে ৬০ হাজারের বেশি স্থানীয় বাসিন্দাকে। পুড়ে ছাই হাজারেরও বেশি বসতবাড়ি। দাবানল পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিলিকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

লেলিহান আগুনের শিখায় রক্তের মতো রাঙা হয়ে আছে চিলির দক্ষিণাঞ্চলের আকাশ। যেদিকে চোখ যায় দাউ দাউ করে জ্বলছে আগুন। এরমধ্যেই হুইল চেয়ারে বসিয়ে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের। নার্স-ডাক্তার আর রোগীর স্বজনদের চোখে মুখে অজানা আতঙ্ক। এমন দৃশ্য শেষ কবে দেখেছিল চিলির সাধারণ মানুষ?

স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘আগুন একেবারে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। আবহাওয়াও আমাদের অনুকূলে নেই।’

অন্য একজন বলেন, ‘সব কিছু ফেলে এসেছি। সবাইকে নিয়ে নিরাপদে বের হওয়ার সময়টুকু পাইনি।’

গেল ১৬ জানুয়ারি থেকে ভয়ঙ্কর দাবানলের রোষে পুড়ছে চিলির বায়োবিও ও নুবলে প্রদেশ। সেখানে এখনও সক্রিয় ৩০টির বেশি দাবানল। স্থানীয় সময় গতকাল (রোববার, ১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে চিলির ন্যাশনাল ফরেস্ট্রি করপোরেশন জানিয়েছে, বায়োবিও ও নুবলে অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া দাবানলে প্রায় ৮৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুড়ে গেছে। এই দুই প্রদেশ থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে ৬০ হাজারের বেশি বাসিন্দাকে। এখনও পর্যন্ত যাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে তাদের অধিকাংশই এ দুই এলাকার বাসিন্দা।

আরও পড়ুন:

চিলির জননিরাপত্তা মন্ত্রী লুইস করডেরো বলেন, ‘তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী বায়োবিও অঞ্চলেই ১৫ জন নিহত হয়েছেন। প্রসিকিউটর কার্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে মরদেহ উদ্ধারের স্থান ও মৃতদেহ চিহ্নিত করা হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে।’

এখনও পর্যন্ত এ দুই প্রদেশের আড়াইশোর বেশি বাড়িঘর পুড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ির সংখ্যা হাজার ছাড়াতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বায়োবিও ও নুবলে প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বোরিক। তীব্র তাপপ্রবাহ ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এ দাবানল সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

এছাড়াও বায়োবিও অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক বন্দর লিরকেনে আজ (সোমবার, ১৯ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত জারি থাকবে কারফিউ। এমন পরিস্থিতিতে দাবানল মোকাবিলায় চিলিকে সহায়তা দেয়ার বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চিলিতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্র্যান্ডন জাড বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকবার ভয়াবহ দাবানলের কবলে পড়েছে চিলির দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চল। সবশেষে ২০২৪ এর ফেব্রুয়ারিতে একাধিক দাবানলে চিলিতে ১৩০ জনের বেশি মানুষের প্রাণ যায়।

এসএস