গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস মিরপুরের গ্রামীণ ব্যাংক কমপ্লেক্স পাল্টে গুলশান ২ এ বাসার ঠিকানায় ভোটার এলাকা স্থানান্তর করেন। ঠিকানা বদল হওয়ায় আসছে নির্বাচনে তিনি ভোট দেবেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ড, গুলশানের নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রে। ১৭ বছর পর দেশে ফিরে একই ভোটকেন্দ্রে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এছাড়াও সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কুমিল্লার মুরাদনগর থেকে ধানমন্ডিতে নিজের ভোট স্থানান্তর করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একই বছরে তিনবার ভোটার তালিকা হালনাগাদ করে তালিকা প্রকাশ করে ইসি। চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় সাত লাখের বেশি ভোটার আবেদন করেছেন নিজ ভোটের এলাকা পরিবর্তনের। এরইমধ্যে এনআইডি সংশোধন হয়েছে ৬ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি ভোটারের। ইসির ১০টি প্রশাসনিক অঞ্চলের মধ্যে শুধু ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়েছেন ৮৬ হাজার ৮২৫ জন।
আরও পড়ুন:
দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ নির্বাচনের ভোটার তালিকা পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, বিশেষ কয়েকটি আসনে নতুন ভোটার স্থানান্তরের হার বেশি। রাজধানীর বিভিন্ন আসনের পুরানো স্থায়ী ভোটাররাও বলছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় বেড়েছে অপরিচিত মানুষের আনাগোনা।
আসন্ন নির্বাচনে এমন আবেদন ও হালনাগাদকরণকে ভোটিং মেকানিজমের অংশ বলে মনে করে বিএনপি। তবে, একে স্বাভাবিক ঘটনা বলেই দাবি জামায়াতের। আর এনসিপির মতে, এ কারণে ব্যাহত হচ্ছে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘অস্বাভাবিক তো বটেই। তাদের যে গুরুত্বপূর্ণ সিটগুলো আছে সেগুলো ট্রান্সফার করেছে। আমি শুনেছি মিরপুরে অনেক ট্রান্সফার করেছে। এরকম আমি বলবো যে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পথ তো তারা বেছে নিয়েছে। বিএনপি তো এসব বেছে নেয় নাই।’
জামায়াতের মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘এখন এসে এ নির্বাচন কমিশন এ বিষয়গুলো শুনানি করে ২০০৮ এর পূর্ববর্তী অবস্থায় গিয়েছে। এটা একটা অন্যতম কারণ এ ভোটার ট্রান্সফার হওয়ার। এটা কিন্তু স্বাভাবিক। এটা এ অর্থে না যে ব্যক্তিগতভাবে আমি আপনি একেকজন চেঞ্জ করেছি। এটা কিছু হয়ই।
এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, ‘যে আসনগুলো থেকে চলে গেলো সে আসনগুলোতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কি না সেটাও কিন্তু একটা বড় প্রশ্ন। সেক্ষেত্রে আমার মনে হয় এত বেশি সংখ্যক ভোটার যদি মানে এটা যদি ব্যাপকভাবে হয় তখন একটা বড় প্রভাব পড়বে।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোটার স্থানান্তর একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। নির্বাচন এলে যাচাই বাছাই করেই অনুমতি দেয় ইসি। তাই এতে অস্বাভাবিকতার কিছু নেই।
নির্বাচন বিশ্লেষক জেসমিন টুলি বলেন, ‘ভোটার তালিকা আইন আছে একটা। সে আইনে বলে দিয়েছে আমি কোথায় কোথায় ভোটার হতে পারি। সচরাচর বসবাস করলে সেখানে ভোটার হওয়া যায়। কিন্তু আমি আমার দেশের বাড়িতেও তো হতে পারি, সে রাইটও তো আমার আছে। সেটা আইন আমাকে দিয়েছে। তাহলে সেটা পরিকল্পিতভাবে করার সুযোগ আসলে নাই।’
২০০৮ এর পরে আর কোন প্রতিযোগিতামূলক জাতীয় নির্বাচন হয়নি। তাই বাস্তবতার নিরিখে, ভোটার স্থানান্তরের আবেদন বেশি হওয়ার বিষয়টি যেমন স্বাভাবিক, তেমনি ভোটিং মেকানিজমের শঙ্কাও উড়িয়ে দেয়া যায় না।





