আজ (সোমবার, ১২ জানুয়ারি) সকালে গাজীপুরের সফিপুরে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে ৪১তম বিসিএস আনসার ক্যাডার কর্মকর্তা এবং রিক্রুট সিপাহিদের মৌলিক প্রশিক্ষণের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিত ১৩ জন সদস্যের মধ্যে থাকবেন ৩ জন অস্ত্রধারী, ৬ জন অস্ত্রবিহীন পুরুষ সদস্য এবং ৪ জন অস্ত্রবিহীন নারী সদস্য। সারা দেশে ১ হাজার ১৯১টি আনসার ব্যাটালিয়ন স্ট্রাইকিং ফোর্স টিম মোতায়েন। প্রতিটি টিমে ১০ জন করে মোট ১১ হাজার ৯১০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন, যা সামগ্রিক নির্বাচনি নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত ও কার্যকর করবে।’
তিনি বলেন, ‘যেকোনো ধরনের অনৈতিক, পক্ষপাতমূলক বা দায়িত্ব বহির্ভূত আচরণ ও কর্মকাণ্ড, যা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত বা বিঘ্নিত করতে পারে-তা থেকে সম্পূর্ণভাবে বিরত থাকার জন্য আমি আনসার সদস্যদেরকে সুস্পষ্টভাবে নির্দেশনা প্রদান করছি।’
আরও পড়ুন:
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের ভবিষ্যৎ কল্যাণে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করার পবিত্র দায়িত্ব সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালনের অঙ্গীকার করতে হবে।’
দুর্নীতি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি করে না, এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে ক্ষয় করে এবং জনগণের বিশ্বাস ভেঙে দেয়। কোনো আনসার সদস্য যদি ব্যক্তিস্বার্থ, লোভ বা রাজনৈতিক সুবিধার অংশ হয়ে কাজ করে, তবে সে শুধু আইন ভাঙে না, সে রাষ্ট্রের ভিত্তিকেও দুর্বল করে। বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা কোনো রাজনৈতিক দলের বাহিনী নয়, কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর রক্ষক নয়—এটি রাষ্ট্রের নিরীহ জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতনভুক্ত সরকারি কর্মচারী। আপনাদের কেউ যেন কখনো কোনো বেআইনি আদেশ, কোনো স্বার্থান্বেষী এজেন্ডা বা কোনো পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডের অংশ না হন।’
কুচকাওয়াজে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য চারজন চৌকস প্রশিক্ষণার্থীকে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানান প্রধান উপদেষ্টা। শেষে আনসার সদস্যদের বেশ কয়েকটি টিম নিজেদের শারীরিক সক্ষমতা, কসরত ও আপদকালীন উদ্ধার তৎপরতা প্রদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের অভিভাবক ও বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।





