থেমে যাচ্ছে গলার স্বর। চোখে মুখে স্পষ্ট বিষাদের ছায়া। কাঁদতে পারছেন না মোছাব্বিরের স্ত্রী। সান্ত্বনা দেবার মানুষটি নিথর পড়ে আছে হাসপাতালের বেডে।
স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মোছাব্বিরের স্ত্রী ঢাকা মেডিকেলের সামনে এখানে ওখানে ছুটছিলেন স্বামীর লাশ বুঝে নিতে। বুধবার রাত আটটায় কারওয়ান বাজার এলাকায় তেজতুরি বাজার গলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন আজিজুর রহমান। এমন হত্যাকাণ্ডে বিচার চাইতেও যেন গলা আটকে যাচ্ছিল তার।
মোছাব্বিরের স্ত্রী জানান, তারা সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। এরকম ঘটনা আগেও ঘটেছে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু বিচার আর তদন্ত না হলে এগুলো ঘটতেই থাকবে।
আরও পড়ুন:
মোছাব্বির হত্যাকাণ্ডের খবরে ঢাকা মেডিকেলে ছুটে আসেন তার স্বজন, সহযোদ্ধা ও সহকর্মীরা। এমন হত্যাকাণ্ডের পেছনে বড় শক্তি জড়িত বলে দাবি তাদের।
স্বজনরা জানান, তারা দ্রুত এ বিষয়ে তদন্ত চান। গ্রেপ্তার করা না হলে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড আরও ঘটবে বলেও দাবি করেন তারা।
গুলিবিদ্ধের পরপরই মোছাব্বির ও তার সহযোগী আবু সুফিয়ানকে নেয়া হয় পান্থপথের বিআরবি হাসপাতালে। সেখানেও ভিড় করেন নেতাকর্মীরা।
ঘটনাস্থলের আশপাশে কয়েকটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দু'জন ব্যক্তি পেছন থেকে গুলি করলে পড়ে যান মোছাব্বির। উঠে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে আরও এক দফা গুলি করে ঘাতকরা। সেখানে পড়ে যাওয়া মোছাব্বিরের মোবাইল ফোনটি নিয়ে যান হামলাকারী।
ঘটনাস্থলে আসেন সিআইডি, পিবিআইসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা। এসময় ডিএমপি তেজগাঁও জোনোর ডিসি জানান, ঘটনাস্থলে তিনটি গুলির খোসা পাওয়া গেছে। দ্রুতই ঘাতকদের চিহ্নিত করা হবে বলেও জানান তিনি।
তেজগাঁও জোন ডিএমপির ডিসি মোহাম্মদ ইবনে মিজান বলেন, ‘তিনটি গুলির খোসা পেয়েছি। ঘটনাস্থল থেকে একটু দূরে মুদি দোকান রয়েছে দুটি। উনারা দৌড়ে মুদি দোকানের সামনে গিয়ে পড়ে গিয়েছিলেন। সিসি ক্যামেরা ফুটেজ বিশ্লেষণ করবো। এখানে উনাদের আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গেও কথা বলবো। উনি একটি দলে ছিলেন। দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গেও আমরা কথা বলবো উনার কোনো বিরোধ ছিলো কি না। সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আমরা কাজ করবো।’
গেল কয়েক মাসে গুপ্ত ঘাতকদের নিখুঁত নিশানায় রাজনৈতিক নেতাদের এমন পরিণতিতে শঙ্কিত সাধারণ মানুষ।





