আওয়ামী লীগ এখন সরি বললেও, মূল্য নেই—নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে প্রেস সচিব

মাগুরায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন প্রেস সচিব
মাগুরায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন প্রেস সচিব | ছবি: সংগৃহীত
0

আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেছেন, এখন যদি তারা এসে তাদের ভুল স্বীকার করে বা ‘সরি’ বলে, তবে তার কোনো মূল্য নেই। কারণ, সময় পার হয়ে গেছে এবং তাদের মনোনয়নের সুযোগও আর নেই। আজ (শুক্রবার, ২ জানুয়ারি) সকালে নিজ জেলা মাগুরায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন সকালে তিনি মাগুরা পৌরসভার নিতাই গৌর গোপাল সেবাশ্রম পরিদর্শন করেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বলেন, ‘আমি বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতির ভবিষ্যৎ তেমন একটা দেখি না। আমি মনে করি না মানুষের কাছে তাদের কোনো গ্রহণযোগ্যতা আছে।’

তিনি বলেন, ‘মানুষ ভুল করলে ক্ষমা চায় বা অনুতপ্ত হয়। আমরা সবাই ভুল করি। কিন্তু দীর্ঘ ১৭ মাস পার হয়ে গেলেও দলটি (আওয়ামী লীগ) তাদের দ্বারা সংঘটিত বিপুল পরিমাণ হত্যা ও গুমের ঘটনার জন্য কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেনি। এমনকি তারা পিসফুল বা শান্তিপূর্ণ থাকার কথাও বলেনি।’

আরও পড়ুন:

আওয়ামী লীগ সম্পর্কে শফিকুল আলম বলেন, ‘বিদেশে বসে দলটির নেতাকর্মীরা উল্টো মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। তারা দাবি করছে তিন হাজার পুলিশকে মেরে ফেলা হয়েছে, যা বাস্তবসম্মত নয়। তারা আন্দোলনে অংশ নেওয়া লাখ লাখ ছাত্র-ছাত্রীকে “জঙ্গি” হিসেবে বিশ্বের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছে, যাতে তাদের ওপর চালানো হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া যায়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে বাংলাদেশের মানুষ তাদের আর গ্রহণ করবে না।’

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ না নিলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নিলে নির্বাচন গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে—এমন কোনো ধারণা সাধারণ মানুষের মধ্যে নেই; বরং মানুষ নির্বাচনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। কোনো রাজনৈতিক দল যদি অস্ত্র হাতে তুলে নেয় এবং তরুণ শিক্ষার্থীদের ওপর তা ব্যবহার করে, গুম-খুন, গণহত্যা চালায়, তবে পৃথিবীর কোনো সভ্য দেশ তাকে আর গণতান্ত্রিক দল হিসেবে গণ্য করে না। বস্তুত আওয়ামী লীগ নিজেরাই নিজেদের নির্বাচনে অযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে শফিকুল আলম বলেন, ‘আপনারা নিজেরাই দেখেছেন আগস্টে মাগুরায় কী হয়েছে। ছাত্রলীগ, যুবলীগের পাশে এখানের এমপি সাকিব আল হাসানের বাবাও অস্ত্র হাতে নেমেছিলেন। তাদের গুলিতে মাগুরা শহরে দুজন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এরপরও কি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার নৈতিক বৈধতা থাকে?’

এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব শেষ হলে তিনি আবার সাংবাদিকতায় ফিরতে চান।

এএইচ