জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে যাওয়ায় উত্তাল ইরান, নিহত অন্তত ৬

ইরানে সহিংস বিক্ষোভ
ইরানে সহিংস বিক্ষোভ | ছবি: সংগৃহীত
0

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ইরানজুড়ে। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ৬ জন। হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয় দেশটির বিভিন্ন সরকারি অফিস, মসজিদ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও সরকারি সম্পদ নষ্ট করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩০ জনকে। অস্থিরতা দমাতে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস ও ব্যাংক।

গভীর অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরান। দেশটির মুদ্রাস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৪২ শতাংশে। কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানি রিয়ালের দ্রুত দরপতন হচ্ছে। এতে বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের নিষেধাজ্ঞায় ধুকছে ইরানের অর্থনীতি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় মেটাতেও হিমসিম খাচ্ছে ইরানিরা।

গেল জুনে ইসরাইলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় দেশটির পারমাণবিক স্থাপনার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এরপরই ইরানের নেতৃত্ব নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। অর্থনৈতিক চাপে দিশেহারা বাসিন্দারা। এর জেরে গেল ২৯ ডিসেম্বর ধর্মঘটের ডাক দেন তেহরানের দোকানমালিকরা। ব্যবসায়ীদের ডাকা এ ধর্মঘটে সাড়া দেয় সাধারণ মানুষ। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। গত বুধবার রাতে বিক্ষোভে বিপ্লবী গার্ডের এক সদস্য নিহত হলে আন্দোলন রূপ নেয় সহিংসতায়।

সবচেয়ে বেশি সহিংস ঘটনা ঘটেছে দেশটির লোরেস্তান প্রদেশের আজনা শহরে। যা রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় তিনশো কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। এছাড়া, চাহারমহল ও বখতিয়ারি প্রদেশও ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। এতে প্রাণ হারান বেশ কয়েকজন।

আরও পড়ুন:

এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা প্রাদেশিক গভর্নরের অফিস, মসজিদ, সরকারি অফিস ও স্থাপনা এবং বিভিন্ন ব্যাংকে হামলা ও ভাংচুর চালায়। সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে তারা। এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়ে আন্দোলনকারীরা। জবাবে পুলিশও লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। বিশৃঙ্খলা ও সরকারি সম্পদ নষ্টের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় বেশ কয়েকজনকে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইরানের বেশিরভাগ অংশে ছুটি ঘোষণা করে সরকার। সাপ্তাহিক ছুটিসহ শনিবার পর্যন্ত বন্ধ থাকবে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি ও বেসরকারি অফিস। বিক্ষোভকারীদের বৈধ দাবির বিষয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেন, বিদেশি শক্তি এ আন্দোলনে ইন্ধন যোগাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছে ইরান সরকার।

ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমাহ মোহাজেরানি বলেন, ‘সরকার ধৈর্য ধরে সব দাবির বিষয়ে আন্দোলনকারীদের কথা শুনবে। যেকোনো প্রতিবাদের বিষয়ে ইরান সরকার সতর্ক আছে। জনগণের দাবির বিষয়গুলো সরকার বিবেচনা করবে। বিদ্যমান সমস্যা নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধানে আসা সম্ভব।’

২০২২ সালে হিজাব বিতর্কে পুলিশ হেফাজতে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর ইরানে এটিই সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ।

এফএস