কিন্তু কেন এমনটা হয়? ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলা (BBC Bangla) এবং বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে এর পেছনে বেশ কিছু চমকপ্রদ কারণ রয়েছে।
জন্ম নিবন্ধনে সচেতনতার অভাব ও গ্রামীণ বাস্তবতা
শিশু বিশেষজ্ঞ ড. ইশতিয়াক মান্নানের মতে, বাংলাদেশে এখনো একটি বড় অংশ শিশু গ্রামীণ এলাকায় বাড়িতে জন্মগ্রহণ করে। শিক্ষার হার কম হওয়ায় এবং তাৎক্ষণিক জন্ম নিবন্ধনের (Birth Registration) প্রাতিষ্ঠানিক বাধ্যবাধকতা আগে না থাকায় অভিভাবকরা সঠিক দিন ও ক্ষণ মনে রাখেন না। ফলে প্রয়োজনে যখন কাগজের দরকার হয়, তখন আনুমানিক একটি তারিখ বসিয়ে দেওয়া হয়।
আরও পুড়ন:
স্কুল কর্তৃপক্ষের ‘মনে রাখার সহজ’ কৌশল
বাংলাদেশে কয়েক দশক ধরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির (School Admission) সময় শিশুদের জন্ম তারিখ নির্ধারণের দায়িত্ব পালন করেছেন শিক্ষকরা। যখন শিশুকে স্কুলে ভর্তি বা সরকারি কোনো পরীক্ষায় (SSC/HSC Exam) অংশগ্রহণের জন্য জন্ম তারিখের প্রয়োজন পড়ে, তখন সঠিক তারিখ মনে না থাকায় শিক্ষকরা বা অভিভাবকরা নিজেদের ইচ্ছেমতো একটি তারিখ বসিয়ে দেন। সঠিক প্রমাণপত্র না থাকায় তারা হিসাবের সুবিধার্থে এবং মনে রাখার জন্য বছরের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ জানুয়ারি বসিয়ে দিতেন। একে অনেক ক্ষেত্রে 'অফিশিয়াল বার্থডে' বলা হয়।
সরকারি চাকরির বয়স ও ‘চৈত্র’ মাসের হিসাব
আগের দিনে অনেক অভিভাবক সন্তানের বয়স কমিয়ে দিতেন যাতে সরকারি চাকরিতে (Government Job) প্রবেশের সময় বেশি পাওয়া যায়। আবার অনেক সময় বাংলা মাস (যেমন: চৈত্র বা বৈশাখ) মনে থাকলেও ইংরেজি তারিখ বের করতে গিয়ে জটিলতা এড়াতে বছরের শুরু অর্থাৎ ১ জানুয়ারি (January 1st) লিখে দেওয়া হতো।
আরও পড়ুন:
ডেটাবেজ ও ডিজিটাল ‘ডিফল্ট’ এন্ট্রি
ডিজিটাল যুগে এসে যখন পুরনো ম্যানুয়াল তথ্যগুলো কম্পিউটারে এন্ট্রি করা হয়, তখন অনেক ক্ষেত্রে তারিখ ও মাস না থাকলে সিস্টেম অটোমেটিকভাবে ‘০১-০১-YYYY’ ফর্ম্যাটে ডেটা গ্রহণ করে। পাসপোর্ট এবং এনআইডি-তে ১ জানুয়ারির আধিক্যের পেছনে এটিও একটি বড় যান্ত্রিক কারণ।
আরও পড়ুন:





