যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় উপস্থাপক জিমি কিমেলের লেট নাইট টক শো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ। এরপরই তাকে সাময়িক বরখাস্তও করে ডিজনির মালিকানাধীন এবিসি নেটওয়ার্ক। এমন ঘোষণার পর লস অ্যাঞ্জেলেসের টেলিভিশন স্টুডিও থেকে বের হয়ে আসেন জিমি কিমেল। তবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত গেল সপ্তাহে, একটি লাইভ অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন জিমি কিমেল। তার অভিযোগ সন্দেহভাজন হত্যাকারী ট্রাম্পের সমর্থক। তবে সেটি ভুল প্রমাণে ওঠে পড়ে লেগেছে রিপাবলিকানরা। এ ঘটনায় ট্রাম্প রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এখানেই থেমে থাকেননি জিমি কিমেল। চার্লি কার্কের স্মরণে হোয়াইট হাউজে পতাকা অর্ধনমিত রাখার সমালোচনাও করেন এই উপস্থাপক। একই সঙ্গে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়ারও ব্যঙ্গ করেন তিনি। এতে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেন ট্রাম্প।
এর জেরে এবিসি টিভি নেটওয়ার্কের লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। শুধু তাই নয়, ট্রাম্প বিরোধী কিছু প্রচার করলেই টিভি চ্যানেলের লাইসেন্স কেড়ে নেয়ার হুমকিও দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এ সময় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ৯৭ শতাংশ চ্যানেল তার নেতিবাচক সংবাদ প্রচারে ব্যস্ত।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নেটওয়ার্কগুলোর ৯৭ শতাংশ আমার বিরুদ্ধে বলে। তারা সবসময় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে নেতিবাচক খবর প্রচার করে। তারপরও আমার বিজয় ঠেকাতে পারেনি কেউ। আমি মনে করি তাদের লাইসেন্স কেড়ে নেয়া উচিত।’
আরও পড়ুন:
জিমি কিমেলের অনুষ্ঠান বন্ধের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা, লেখক ও নির্মাতারা। ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, গণমাধ্যমের মুখ চেপে ধরতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন। জিমি কিমেলের ভক্তরা বিক্ষোভে নেমে ট্রাম্প বিরোধী স্লোগান দেন।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাক স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হচ্ছে। শুধু সাধারণ জনগণ নয়, বড় বড় সেলিব্রেটিরাও এর শিকার হচ্ছেন। এটি অবৈধ সিদ্ধান্ত। বাক স্বাধীনতার ওপর ফ্যাসিবাদী আচরণ। এটি স্বৈরশাসকের মতো আচরণ।’
এবিসি নেটওয়ার্কের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি বাক স্বাধীনতা হরণ নয়, একজন প্রতিভাহীন কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে।’
এদিকে, ট্রাম্পের সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের রেডিও, টিভি সম্প্রচারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা মার্কিন ফেডারেল কমিউনিকেশন কমিশনের চেয়ারম্যানও। জিমি কিমেলের সম্প্রচার বন্ধের পক্ষে তিনিও।
মার্কিন ফেডারেল কমিউনিকেশন কমিশনের চেয়ারম্যান ব্রেন্ডন কার বলেন, ‘জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর একটি ছিলো চার্লি হত্যাকাণ্ড। এ বিষয়ে মার্কিন জনগণকে মিথ্যা তথ্য দেয়ার চেষ্টা চলছে। যা দীর্ঘদিন ধরে আমরা লক্ষ্য করছি। জিমি কিমেল তা বাস্তবে রূপ দিয়েছেন।’
এ ঘটনায় মার্কিন কৌতুক অভিনেতা জন স্টুয়ার্ট ট্রাম্পের সমালোচনায় মেতেছেন। দ্য ডেইলি শো নামে অনুষ্ঠান নিয়ে হাজির হয়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে ব্যঙ্গ করেন তিনি। এসময় ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের মহান পিতা ও প্রিয় নেতা বলে উল্লেখ করেন। মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও হাসিঠাট্টা করেন তিনি।





