শিল্প-কারখানা
অর্থনীতি
বাওয়ানি জুট মিলে দিনে ১০ টনের বেশি সোনালী ব্যাগ উৎপাদন সম্ভব
অবশেষে বড় পরিসরে আলোর মুখ দেখছে পরিবেশবান্ধব সোনালি ব্যাগ। আগামী জুলাইয়ের পর এর বাণিজ্যিক উৎপাদনের আশা। সম্প্রতি সরকারের শত কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণায় গতি পেয়েছে ডেমরায় অবস্থিত কারখানাটি। এখানে দিনে ১০ টনের বেশি ব্যাগ উৎপাদন সম্ভব।

পাটের তরল দ্রবণ থেকেই উৎপাদন হচ্ছে পরিবেশবান্ধব পলিথিন। কিন্তু সোনালি আঁশকে কিভাবে তরলে পরিণত করা হলো?

শুরুতে কৃষক কাছ থেকে সংগ্রহ করা পাটের আঁশ থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরি হয় জুট ক্যাডিস, যা থেকে হয় পাটের সেলুলোজ। এরপর পানিতে দ্রবীভূত সেলুলোজে রূপান্তর করা হয়। যাতে বাইন্ডার দিয়ে মিক্স করে তরলে পরিণত করা হয়।

পাটের এই তরলে চাহিদা অনুযায়ী রঙ মিশিয়ে পলিথিন তৈরির জন্য দেয়া হয় ফিল্ম কাস্টিং মেশিনে। যেখান থেকে তৈরি হয় শতভাগ পরিবেশবান্ধব পাটের পলিথিন। পরবর্তীতে থেকে তৈরি হয় পাটের ব্যাগ। যা পানিতে গলে যায়, পচে গিয়ে মাটিতে মিশে যায় দ্রুত। মাটিতে মিশে গাছের জন্য খাবার তৈরি হয়। এমনকি কারোর পেটে চলে গেলেও কোনো ক্ষতি নেই।

ঢাকার ডেমরার ৮৬ একর জায়গায় লতিফ বাওয়ানি জুট মিলে কার্যক্রম বলতে এখন রয়েছে শুধু পাট থেকে তৈরি সোনালী ব্যাগ প্রকল্প। উদ্ভাবক জানালেন, বর্তমানে প্রচলিত ক্ষতিকর পলিথিনই সোনালি ব্যাগের বাণিজ্যিক উৎপাদনের প্রতিবন্ধকতা।

পরিবেশবান্ধব সোনালি ব্যাগের বিজ্ঞানী  ও উদ্ভাবক ড. মোবারক আহমদ খান বলেন, 'আমাদের চ্যালেঞ্জ হচ্ছে প্লাস্টিক ব্যাগের। পাটের এই ব্যাগকে প্লাস্টিক ব্যাগ বাজারে আনতে দিতে চাই না। তারা আমাদের বড় প্রতিবন্ধকতা। পাটের এই ব্যাগে ৬ মাস পর্যন্ত পানি রেখে দেওয়া যায়। কাস্টমার ব্যাগ যেভাবে চাইবে সেভাবে আমরা তৈরি করবো।'

বুধবার (৩ এপ্রিল) সোনালী ব্যাগ তৈরির এ প্রকল্প পরিদর্শনে যান বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক। পরিবেশবান্ধব এ ব্যাগের বাণিজ্যিক উৎপাদন নিয়ে জানান পরিকল্পনার কথা।

মন্ত্রী বলেন, 'পলিথিন ব্যাগ বন্ধ করার জন্য যে অভিযান করবো তার  আগে পলিথিনের বিকল্প তৈরি করতে হবে। সোনালি ব্যাগকে ব্যাপকভাবে প্রচার করে মানুষের কাছে পৌছে দিতে হবে।'

তবে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার পর এর দাম যাতে মানুষের নাগালে থাকে তা নিয়ে বর্তমান সরকার কাজ করছে। এছাড়া সম্প্রতি ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের পুরো টাকা আগামী জুলাইয়ে ছাড় পাবে বলে জানান পাটমন্ত্রী।

২০১৫ সালে শতভাগ পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যাগের ফর্মুলা তৈরির পর সারা ফেললেও অবহেলিত রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণার পর চলছে নানা পরিকল্পনা এখন এই কারখানা থেকে প্রতিদিন আড়াইশো কেজি ব্যাগ তৈরি হলেও, প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্দকৃত ১০০ কোটি টাকা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারলে দিনে দশ টনেরও বেশি বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে পারবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

ইএ