প্রযুক্তি সংবাদ
তথ্য-প্রযুক্তি
ফেসবুকে 'শহীদ' শব্দের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান
ফেসবুকে আরবি 'শহীদ' শব্দের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে আহ্বান জানিয়েছে মেটা'র অর্থায়নে পরিচালিত ওভারসাইট বোর্ড। তাদের অভিযোগ শব্দটি নিয়ে ফেসবুক বাড়াবাড়ি করছে। ফেসবুকের ধারণা 'শহীদ' শব্দটি বিপজ্জনক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রশংসায় ব্যবহৃত হয়। তাই কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ডের দোহাই দিয়ে মুছে ফেলা হয় সব কন্টেন্ট।

মধ্যেপ্রাচ্যের কনটেন্ট পলিসি নিয়ে কয়েক বছর ধরে মেটা'র বিরুদ্ধে নানা আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে। এক সমীক্ষায় দেখা যায়, মানবাধিকার প্রশ্নে আরবি ভাষার ব্যবহারকারীদের ওপর মেটার পরিষেবা বিরূপ প্রভাব ফেলছে। হামাস-ইসরাইল যুদ্ধের পর সমালোচনা আরও তীব্র হয়েছে। মেটার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা। কোম্পানিটির এমন সমালোচনার মুখে এবার আরবি শহীদ শব্দের ব্যবহার নিয়ে রায় এলো।

'শহীদ' শব্দের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে মেটা প্ল্যাটফর্মকে আহ্বান জানিয়েছে ওভারসাইট বোর্ড। বছরব্যাপী পর্যালোচনা শেষে বোর্ড দেখতে পায়, মেটা অনেক শব্দের বিভিন্ন অর্থের পার্থক্য করতে পারে না। যার ফলে সহিংসতা বা ক্ষতিকর নয়, এমন অনেক কনটেন্ট 'শহীদ' শব্দ থাকার কারণে মুছে ফেলা হয়েছে। এতে অকারণে লাখ লাখ ব্যবহারকারীর বক্তব্য দমিয়ে রাখার অভিযোগ উঠে।

মেটা'র অর্থায়নে ২০২০ সালে ওভারসাইট বা তদারকি বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম থেকে কনটেন্ট সরানোর বিষয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করে এই বোর্ড। কোন কনটেন্ট বা শব্দ বিতর্কিত হলে তা পর্যালোচনার দায়িত্ব পড়ে এই বিশেষজ্ঞ দলের ওপর। তাদের দেয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কনটেন্টের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয় ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ মেটার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো।

মেটা'র কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড নীতি অনুযায়ী, 'শহীদ' শব্দটি বিপজ্জনক সংস্থা ও ব্যক্তিদের প্রশংসায় ব্যবহার করা হয়। এদের মধ্যে ইসলামপন্থী জঙ্গি গোষ্ঠী, মাদক কারবারি ও বর্ণবাদী বিভিন্ন সংগঠনের নাম আছে। মেটার বিপজ্জনক সংগঠন হিসাবে চিহ্নিত বিভিন্ন দলের মধ্যে হামাসও আছে। মেটার ওভারসাইট বোর্ড জানায় শহীদ শব্দের বিভিন্ন অর্থ আছে। এই শব্দ দিয়ে শুধু সহিংসতা বা বিপজ্জনক ঘটনা বোঝায় না।

মেটা'র এমন আচরণের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। তাদের অভিযোগ, গাজার প্রকৃত চিত্র সবার সামনে তুলে ধরতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মেটা। সেন্সরশিপের নামে দমন করা হয়েছে অনেকের বক্তব্য। এ অবস্থায় মেটা তার প্ল্যাটফর্মগুলোতে শহীদ শব্দের ব্যবহার নিয়ে আলোচনা শুরু করে। এক প্রতিবেদনে ওভারসাইট বোর্ড জানায়, শহীদ শব্দটি নিয়ে বাড়াবাড়ি করেছে ফেসবুক। অযথা মানুষের বক্তব্যকে দমন করা হয়েছে।

অন্য যেকোন একক শব্দ বা বাক্যাংশের চেয়ে শহীদ শব্দের কারণে সবচেয়ে বেশি কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। বোর্ডের সুপারিশ পর্যালোচনা করে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিক্রিয়া জানাবে মেটা কর্তৃপক্ষ। যদিও বোর্ডের সুপারিশ মানতে বাধ্য নয় ফেসবুক।

এভিএস