মধ্যপ্রাচ্য
বিদেশে এখন
ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি হুতির, বোতলে গাজার মানচিত্র
গাজায় গণহত্যার প্রতিবাদে অস্ত্র হাতে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা। তবে তাদের দেশেরই সাধারণ জনগণ বেছে নিয়েছে ভিন্নপথ। সংহতি প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে কেউ বোতলে জুড়ে দিচ্ছেন গাজার মানচিত্র, কারো গাড়িতে শোভা পাচ্ছে ফিলিস্তিনের পতাকা, আবার কেউবা ডাক দিচ্ছেন ইসরাইল সংশ্লিষ্ট পণ্য বয়কটের।

গাজায় নির্বিচারে ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে গেল নভেম্বর থেকে লোহিত সাগরে আক্রমনাত্মক অবস্থানে হুতি বিদ্রোহীরা। এ পথে যাতায়াতকারী ইসরাইল সংশ্লিষ্ট পণ্যবাহী জাহাজে হামলা করছে তারা। বাব আল-মানদাব প্রণালি দিয়ে এ পর্যন্ত জাহাজে হামলা হয়েছে ৬০ বারের বেশি। নিরাপত্তার খাতিরে হর্ন অব আফ্রিকা রুট বেছে নিয়েছে বড় শিপিং প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলস্বরূপ বাড়ছে সময়, অর্থ ও পণ্যজট।

উল্টোদিকে নিরস্ত্র প্রতিবাদে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে ইয়েমেনের প্রতিষ্ঠান শামলান ওয়াটার কোম্পানি। প্রস্তুতকৃত বোতলজাত পানিতে যুক্ত করা হচ্ছে ফিলিস্তিনের পতাকার লেবেল। পাশাপাশি রয়েছে গাজার মানচিত্র। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, ইয়েমেনিদের মধ্যে আরব সমস্যা নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে কাজ করছেন তারা।

শামলান ওয়াটার কোম্পানির মান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামসান বলেন, 'গাজায় বেসামরিক মানুষকে হত্যার প্রতিবাদে আমরা বোতলের লেবেলে ফিলিস্তিনের মানচিত্র ও পতাকা যুক্ত করছি। দেশের প্রতিটি কোনায় আমাদের পানি পৌঁছায়। আরব সমস্যা নিয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরিই আমাদের মূল লক্ষ্য।'

বোতলগুলো ছড়িয়ে পড়ছে যে সুপারমার্কেটগুলোয়, সেখানেও টানানো আছে গাজার প্রতি সংহতির পোস্টার। ডাক দেয়া হচ্ছে ইসরাইল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পণ্য বয়কটের। এতে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে যেমন বিক্রি বাড়ছে দেশীয় পণ্যের, তেমনি প্রচারিত হচ্ছে গাজার নিরীহ মানুষের গণহত্যার খবর।

ফিলিস্তিনের প্রতি ইয়েমেনের জনগণের ভালোবাসার চিত্র প্রকাশ পায় দেশটির পথে প্রান্তরেও। সড়কে তৈরি করা হয়েছে ফিলিস্তিনের মানচিত্র খচিত ফলক, পথের নামকরণ করা হয়েছে ফিলিস্তিনের নামে, এমনকি গাড়ির কাচেও শোভা পাচ্ছে ফিলিস্তিনের পতাকা। প্রতি শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে রাজধানী সানায় নেমে আসেন হাজারও মানুষ। নিরস্ত্র জনগণের কণ্ঠে ফিলিস্তিনে ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধের ডাক।

এমএসআরএস