গ্রামীণ কৃষি
কৃষি
পেঁয়াজ-বীজের চাহিদার অর্ধেক মেটায় ফরিদপুর
পেঁয়াজের ফুল শুকালেই মেলে বীজ, যার দাম আকাশছোঁয়া। আর সারাদেশে পেঁয়াজ বীজের যে চাহিদা তার ৫০ শতাংশের যোগান আসে ফরিদপুর থেকে। চলতি মৌসুমে এ জেলার চাষিদের আশা ৩০০ কোটি টাকার বীজ উৎপাদনের।

ফরিদপুরের অম্বিকাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর এলাকার লাভলি আক্তার ও ইমতাজ মোল্লা দম্পত্তি, একযুগ ধরে পেঁয়াজ বীজ চাষ করছেন। শুরু হয়েছিল দুই বিঘা জমি দিয়ে, বর্তমানে ৪০ বিঘা জমিতে বীজের চাষাবাদ করেছেন তারা। একসময় নুন আনতে পান্তা ফুরালেও এখন সুখে জীবনযাপন করছেন।

তারা বলেন, 'আমরা এ ফসল করার পর সংসারে উন্নতি আসে। এখন কোন অভাব অনটন নাই। ৭৫ লাখ টাকা খরচ করে বিল্ডিং করছি, জমি কিনছি। প্রতিবছর জমিতে ফসল ফলাই।'

ফরিদপুরের মাটি ও আবহাওয়া পেঁয়াজ চাষে উপযোগী হওয়ায় বীজও মেলে বেশ পরিমাণ। আবাদ শুরু হয় নভেম্বর-ডিসেম্বরে আর ফলন পাওয়া যায় এপ্রিল-মে মাসে। নিতে হয় বাড়তি যত্ন। তিন ধরনের পেঁয়াজ আবাদ হয় এ জেলায়। দেশের চাহিদার ৫০ শতাংশ বীজ যায় এ জেলা থেকে।

চাষিরা বলছেন, পেঁয়াজ বীজ চাষ করে তাদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটেছে। গেল বছরের মতো এবছরও ভালো দামের আশা তাদের। তারা বলেন, সোনার চেয়ে বেশি দাম এটার। আমরা এটাকে কালো সোনা মনে করি। এ এলাকার সব কৃষক এটা করেই বড়লোক। সারাদেশে এই বীজ যায়। এখানে শিলাবৃষ্টি আর দূযোর্গের আশংকা কম। তাই সবাই এটা চাষ করে।

গেল বছর দাম ভালো পাওয়ায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি পেঁয়াজ বীজের আবাদ হয়েছে বলে জানান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. হযরত আলী। তিনি বলেন, 'আমরা সবসময় কৃষকদের পাশেই থাকি। কীভাবে ভালোভাবে সংরক্ষণ করা যাবে এ বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।'

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে পেঁয়াজ বীজের আবাদ হয়েছে ১৮০০ হেক্টরের বেশি জমিতে। যা থেকে উৎপাদন হবে সাড়ে ৭ টন বীজ।

এভিএস