এশিয়া
বিদেশে এখন
মিয়ানমারে গণহারে তৈরি হচ্ছে সেনাবাহিনীর পোশাক
মিয়ানমারের জান্তা সরকার সেনাবাহিনী পরিচালিত গার্মেন্টস কারখানাগুলোকে গণহারে সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম বা পোশাক তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন।

নারী-পুরুষের বাধ্যতামূলক সেনাবাহিনীতে নিয়োগের ঘোষণার পর; গণহারে সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম তৈরির ঘোষণা এলো। এপ্রিলের থিঙ্গিয়ান ছুটির পর থেকে শুরু হবে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ প্রক্রিয়া। এখন পর্যন্ত ৫ হাজার তরুণ-তরুণীর তালিকা তৈরি হয়েছে।

দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত টেক্সটাইল আর গার্মেন্টস কারখানাগুলোকে নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য ১ লাখ আর্মি ইউনিফর্ম সরবরাহ করতে বলা হয়েছে। ইয়াঙ্গুন, মান্দালয়, বাগো আর মাগওয়েতে সেনা নিয়ন্ত্রিত গার্মেন্টস কারখানা আছে। কর্মীরা বলছেন, গেল সপ্তাহে সেনাবাহিনীর পোশাক তৈরির আদেশ পেয়েছেন তারা।

ইয়াঙ্গুনে অবস্থিত গার্মেন্টসগুলো ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউনিফর্ম তৈরি শুরু করেছে। আগামী এপ্রিল মাসের শেষের দিকে মিলিশিয়া ইউনিফর্মের ৫ হাজার সেট এবং আরও ৫ হাজার সামরিক ইউনিফর্ম সেনা কর্তৃপক্ষের কাছে কারখানাটির হস্তান্তর করার কথা রয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মিয়ানমারের জান্তা সরকার ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘাত প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর আক্রমণে সামরিক বাহিনীর সদস্যরা একের পর এক ঘাঁটি হারাচ্ছে এবং প্রতিবেশি দেশগুলোতে আশ্রয় নিচ্ছে। এমন অবস্থায় প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের জন্য সামরিক বাহিনীতে যোগদান বাধ্যতামূলক করেছিল দেশটির জান্তা সরকার।

দেশের সামরিক বাহিনীতে নাগরিকদের বাধ্যতামূলক যোগদানের বিধান রেখে ২০১০ সালে মিয়ানমারে একটি আইন চালু করা হয়েছিল। কিন্তু এতদিন সেটি কার্যকর করা হয়নি। আইনটিতে দুইবছরের জন্য নাগরিকদের সামরিক বাহিনীতে চাকরি করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বেসামরিক সরকারের কাছ থেকে ক্ষমতা দখল করেছিল সেনাবাহিনী। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং অভ্যুত্থানবিরোধী যোদ্ধাদের সঙ্গে একের পর এক যুদ্ধে তাদেরকে পরাজিত হতে দেখা যাচ্ছে।

মূলত স্বাধীনতার পর থেকে সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সাথে সামরিক বাহিনীর সংঘাত চলমান থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে সেই সংকট সামাল দিতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে দেশটির জান্তা বা সামরিক শাসকরা।

এভিএস