বিশ্বকাপ ফুটবলের আনন্দ-উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বজুড়ে। গোল বলের এই খেলা নিয়ে ভক্তদের উন্মাদনাকে পাগলামি বলে মনে করেন অনেকেই। প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, এসব পাগলামি করে আসলেও কোনো লাভ আছে? ফুটবলকে আসলেই জীবনের অংশ বানানো উচিত? এসব প্রশ্নেরই যেন উত্তর হয়ে দাঁড়ালেন ভোজিনিয়া।
বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার স্পেনের বিপক্ষে একাই দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনিয়া। আসল নাম জোসিমার ঝোজেহ এভোরা দিয়াস। ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজতেই ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষকের চোখে দেখা যায় পানি। দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে জিরো থেকে হিরো বনে যাওয়া ভোজিনিয়া জীবনের সেরা মুহূর্তে করেছিলেন প্রিয় মাকে পাশে না পাওয়ার আফসোস।
মূলত টাকার অভাবে মা আনা ক্যান্ডিদা এভোরার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা করাতে পারেননি ভোজিনিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিমালা অনুযায়ী, মায়ের জন্য ভিসা পেতে তাকে ফি ছাড়াও অতিরিক্ত ১৫ হাজার ডলার বন্ড হিসেবে জমা দিতে হতো। আর্থিক সক্ষমতা না থাকায় সেটি করতে পারেননি ভোজিনিয়া। স্পেনের বিপক্ষে স্বপ্নীল পারফরম্যান্সের পর জানিয়েছিলেন সেটি।
আরও পড়ুন:
ভোজিনিয়ার কান্না ছুঁয়ে যায় সবাইকে। অবশেষে পূরণ হচ্ছে তার স্বপ্নও। ভোজিনিয়ার মায়ের জন্য বিনামূল্যে ভিসা প্রদান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের পরবর্তী ম্যাচগুলো মাঠে বসেই দেখতে পারবেন তিনি। এমনকি বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া দেশগুলোর ফুটবলারদের পরিবারের সদস্যদের জন্য এই ফি মওকুফ করা হয়েছে। আফ্রিকার ছোট্ট এক দেশের অখ্যাত গোলকিপারের ত্যাগ বদলে দিলো যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি।
অবশ্য এতে যুক্তরাষ্ট্রকে মহান ভাবার কিছু নেই। বৈরি সম্পর্কের জেরে ইরানের সঙ্গে বিশ্বকাপের আগে থেকেই বৈষ্যম্যমূলক আচরণ করেছে দেশটি। টুর্নামেন্টের আগে ইরানের প্রতিনিধিদের বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠিয়েছে তারা। এমনকি বিশ্বকাপের জন্য ইরানের খেলোয়াড়দের ভিসা দিয়েছে শুধু ম্যাচের দিনের জন্য।
এমন একটি দেশকে একটি ক্ষেত্রে বদলাতে হয়েছে ভিসানীতি। যা এসেছে ফুটবলের কল্যাণেই। ফুটবলকে জীবনের অংশ করে নেয়া বা পাগলামিটা এখন নিশ্চয়ই আপনার কাছে দোষের মনে হচ্ছে না?




