দরজায় কড়া নাড়ছে বিশ্বকাপ। এদিকে দর্শকদের স্বাস্থ্যনিরাপত্তা নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। ইবোলার সংক্রমণে প্রশ্ন উঠেছে বিশ্বকাপে কতটুকু প্রভাব মুক্ত থাকবে সাধারণ দর্শকরা?
পূর্ব কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত প্রায় ছয়শো সন্দেহভাজন আক্রান্তের তথ্য পাওয়া গেছে। মারা গেছেন দেড় শতাধিক মানুষ। এমন পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।
আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করছে ৪৮ দলের ফুটবল বিশ্বকাপ। এরই মধ্যে ইবোলা পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে কঙ্গো দলের প্রস্তুতিতেও। কিনশাসায় নির্ধারিত প্রাক-টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। দলটি তাদের প্রস্তুতি ক্যাম্প সরিয়ে নিয়েছে বেলজিয়ামে।
সতর্কতা থাকলেও বিশ্বকাপ ঘিরে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। আয়োজক ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েই এগিয়ে চলছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এ ফুটবল আসর।
আরও পড়ুন:
কিংস কলেজ লন্ডনের গ্লোবাল হেলথ বিশেষজ্ঞ ড. অলিভার জনসন বলেন, ‘সাধারণ দর্শকদের জন্য ইবোলার ঝুঁকি খুবই কম। কারণ এটি বাতাসে ছড়ায় না। সাধারণত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে সংক্রমণ ঘটে। উন্নত দেশগুলোতে দ্রুত শনাক্তকরণ ও কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং ব্যবস্থা কার্যকর।’
তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়। যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে কঙ্গো, উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদান থেকে আসা ভ্রমণকারীদের জন্য বাড়তি স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালু করেছে। বিশেষ করে ওয়াশিংটন ডালাস বিমানবন্দরে করা হচ্ছে অতিরিক্ত স্ক্রিনিং।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দর্শকদের নিয়মিত হাত পরিষ্কার রাখা, অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং গুজব বা বৈষম্যমূলক আচরণ থেকে বিরত থাকতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যদি প্রাদুর্ভাব আরও ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে শেষ মুহূর্তে নতুন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বা বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু হতে পারে। এতে বিশ্বকাপ সংশ্লিষ্ট ভ্রমণ ও আয়োজন ব্যবস্থাপনায় বাড়বে চাপ।





