‘ব্যাটেল অব সান্তিয়াগো’—ফুটবল বিশ্বকাপ ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়

ব্যাটেল অব সান্তিয়াগো
ব্যাটেল অব সান্তিয়াগো | ছবি: এখন টিভি
2

ফুটবলকে সৌন্দর্যের খেলা বলা হলেও বিশ্বকাপ ইতিহাসে এমন কিছু ঘটনা আছে যা বিতর্কিত করেছে জনপ্রিয় এই খেলাকে। এমন একটি ঘটনা পরিচিত ‘ব্যাটেল অব সান্তিয়াগো’ নামে। ‘ব্যাটেল অব সান্তিয়াগো’ আসলে কী আর কেনই বা এটিকে বিশ্বকাপ ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়?

বিশ্বকাপ ফুটবলে এমন কিছু ঘটনা আছে যা চিরকাল স্মরণ করা হবে। তবে এমনও কিছু ঘটনা আছে যা পুনরায় ঘটুক তা হয়তো কেউ চাইবে না। ফুটবল বিশ্বে তেমনই নাম ‘ব্যাটেল অব সান্তিয়াগো’।

১৯৬২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ যদি ইউরোপে আয়োজন করা হয়, তাহলে তা বয়কট করার হুমকি দেয় লাতিন দেশগুলো। যার প্রেক্ষিতে সেবার চিলিতে আয়োজন করা হয় বিশ্বকাপ। তবে ১৯৬০ সালে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পের শিকার হলে বিশ্বকাপ আয়োজনে কঠিন অবস্থায় পড়ে যায় চিলি।

শেষ পর্যন্ত সবধরনের শঙ্কা কাটিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মাঠ পুনরায় খেলার উপযোগী করে গড়ে তোলে চিলি। তবে ইতিলিয়ান গনমাধ্যমগুলো দেশটিকে হেয় করে নানা ধরনের প্রচারণা চালাতে থাকে। এসবে বলা হয়, বিশ্বকাপ আয়োজন করার ক্ষমতা চিলির নেই।

শুধু তাই নয়, যোগাযোগ ব্যবস্থা, চিলির নারীদের অপবাদ এবং নানা ধরনের অসম্মানজনক কলাম ছাপাতে থাকে ইতালি। দেশটির প্রতি তখন থেকেই ক্ষোভ জন্মাতে থাকে চিলির নাগরিকদের।

আরও পড়ুন:

এমন অবস্থায় চিলিতে বিশ্বকাপ শুরু হলে ম্যাচগুলোতে চলতে থাকে শক্তি প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা। চারদিক থেকে হিংস্রতা, মারামারি, ইনজুরি আর দুর্ঘটনার খবর আসতে থাকে।

গ্রুপ পর্ব পার হতে স্বাগতিক চিলি ও ইতালির ম্যাচটি ছিলো দু’দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ দুই দেশের সামগ্রিক বিষয়গুলো ফুটবল মাঠের বাইরেও প্রভাব বিস্তার করে। চিলির একটি পত্রিকা এ ম্যাচকে বিশ্বযুদ্ধের তকমা দেয়।

৬৬ হাজার দর্শকের সামনে চিলি জাতীয় স্টেয়ামে সেদিন ম্যাচের শুরু থেকেই উত্তেজনা শুরু হয়। বাঁশি বাজার আগেই থুথু ছোঁড়াছুড়ি করতে দেখা যায় উভয় দলের ফুটবলারদের। এরপরের ঘটনাগুলো আরও ভয়াবহ।

ম্যাচের পুরো সময় ফুটবলারদের প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা, ঘুষি কিংবা লাথি মারতেই ব্যস্ত দেখা যায়। ম্যাচ শুরুর মাত্র ১২ সেকেন্ডের মাথায় ফাউলকে কেন্দ্র করে লাথি-পাল্টা লাথির পর্ব চলতে থাকে। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফেরাতে রেফারিকে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়। শেষ পর্যন্ত চিলিই জয় পায় ম্যাচটিতে।

এমন ম্যাচের পর চিলির বার, মার্কেট, রেস্টুরেন্ট প্রায় প্রতিটি জায়গাতেই নিষিদ্ধ হন ইতিলিয়ানরা। এরপর ইতালি দলের অনুশীলনেও সশস্ত্র পাহারার ব্যবস্থা করতে হয়।

এসএইচ