১৯৯৪ বিশ্বকাপ। রেনে হিগুইতা, জর্জ ভালদেরামাদের নিয়ে গড়া কলম্বিয়া ফুটবল তখন পার করছে সোনালী সময়। বিশ্বকাপের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আসেছিলো টানা ২৬ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড নিয়ে। বাছাইপর্বের ৬ ম্যাচে নেই কোনো হার। আর সেই স্কোয়াডের নেতা রক্ষণের শিল্পী আন্দ্রেস এস্কোবার।
কলম্বিয়ার ফুটবল যখন উড়ছে, তখন গ্যাং সংস্কৃতি এবং চোরাকারবারিতে ডুবছে দেশ। বিখ্যাত মাফিয়া পাবলো এসকোবারের মৃত্যুর পর কলম্বিয়া হয়ে উঠে অপরাধের স্বর্গ। এরই মধ্যে ১৯৯৪ সালে পুরো দেশকে এক সুতোয় নিয়ে আসে দেশের ফুটবল। আটলান্টিক পাড়ের বিশ্বকাপে ডার্কহর্স কলম্বিয়াকে অবশ্য প্রথম ম্যাচেই বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়। ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে জর্জ হ্যাজির রোমানিয়ার কাছে ৩-১ গোলে হেরে যায় দেশটি।
আরও পড়ুন:
দ্বিতীয় ম্যাচের আগেই নিজ দেশের অপরাধী চক্রদের হুমকি আসতে থাকে কলম্বিয়ার ড্রেসিংরুমে। ম্যাচটা তারা খেলতে নামে পাহাড়সম চাপ নিয়ে, আর সেটাই যেন ডেকে আনে দুর্ভাগ্য। ম্যাচের প্রথমার্ধের ৩৫ মিনিটে প্রতিপক্ষের ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজের জালেই বল ঠেলে দেন এস্কোবার। সেদিন ম্যাচটা কলম্বিয়া হেরে যায় ২-১ গোলে। বিশ্বকাপ থেকেও বিদায় হয়ে যায় নিশ্চিত। আর সেটাই লিখে দেয় আন্দ্রেস এসকোবারের ভাগ্যও।
বিশ্বকাপের পর নিজ শহরে কিছুদিন গৃহবন্দী থাকেন এস্কোবার। পরের মৌসুমে ইতালিয়ান জায়ান্ট এসি মিলানে যোগ দেয়ার কথাও তখন চূড়ান্ত। কিন্তু নিজ ঘর থেকে ২ জুলাই বেরিয়ে সেদিনই আততায়ীর গুলিতে প্রাণ হারান তিনি। ঘাতক হুম্বার্তো মুনোজ প্রতিটা গুলির আগে কেবল উচ্চারণ করেছিলো একটি শব্দ— ‘গোল’।
পরবর্তীতে জানা যায়, কলম্বিয়ার পক্ষে বাজি ধরে বড় অঙ্কের লোকসান হয় হুমবার্তো মুনোজের দুই মালিক সান্তিয়াগো এবং ডেভিড গ্যালোনের। তাদের সিদ্ধান্তেই হুমবার্তো খুন করে আন্দ্রেস এসকোবারকে। যেটা আজ পর্যন্ত ফুটবল বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হিসেবে গণ্য করেন সকলেই।





