ড্রোনের আলো, এনজো ফার্নান্দেজসহ লাখো দর্শকের কান্না আর একটা বক্তব্য। মাঠের বাইরের আনুষ্ঠানিকতা আর ধন্যবাদ দিয়ে শেষ হলো আকাশী-সাদা জার্সিতে লিওনেল মেসির পথচলা।
মেসিকে নিয়ে অজস্র লেখা আপনি পড়েছেন। ন্যাপকিনে স্বাক্ষর করে বার্সেলোনায় গমন থেকে প্রজন্মের সেরা হয়ে ওঠা কিংবা কাতারের আরব্য রজনীর উপাখ্যানের মতো স্বপ্ন পূরণ করে সর্বকালের সেরার তকমা নিজের করে নেয়ার গল্পটাও আপনার জানা।
ঠিক যেমনটা জানেন, বেনিনের বিপক্ষে নিজের শেষ ম্যাচের পর লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক গোল ১২৬, আগে থেকেই যা দ্বিতীয় স্থানে। আর অ্যাসিস্টের সংখ্যা নিয়ে গেছেন ৬৭-তে। যার আশেপাশেও নেই কেউই।
আরও পড়ুন
মেসিকে স্পেনে যাওয়া থেকে আটকাতেও কম নাটক হয়নি। ২০০৪ সালে অনেকটা তড়িঘড়ি করেই প্যারাগুয়ের সঙ্গে অনূর্ধ্ব-২০ দলের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করা হয়েছিল, আর্জেন্টিনায় তাকে রেখে দিতে।
প্রতিদানে মেসি যা দিয়েছেন, তাতে আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসটাই লিখতে হচ্ছে নতুন করে। কেম্পেস, ম্যারাডোনা, বাতিস্তুতা, জেনেত্তি কিংবা মাশ্চেরানো থেকে দেশের সব রেকর্ডই নিজের করে নিয়েছেন লিও।
গ্রেটনেসের সংজ্ঞায়নটাও নিজেই ঠিক করেছেন গেল দুই দশকে। তাতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে রেকর্ডেও নিজেকে বানিয়েছেন একক অধিপতি। সর্বোচ্চ ফ্রিকিক গোল, একমাত্র ফুটবলার হিসেবে দুই গোল্ডেন বল, সবচেয়ে বেশি গোলে অবদানসহ আরও নানা কীর্তিতে নিজেকে করেছেন অবিস্মরণীয়। এমনকি ফুটবলার হিসেবে সবচেয়ে বেশি ৪১টি গিনেস বুক অভ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডও তার।
ফুটবলকে পরিপূর্ণ করে মেসি এল মনুমেন্তাল থেকে বিদায় নিয়েছেন হাসিমুখে। রোজারিও থেকে মারাকানা, লুসাইল হয়ে মনুমেন্তালের পুরো যাত্রার শেষে ফুটবল দুনিয়াও মেসিকে হয়ত বলতে চাইবে ‘গ্রাসিয়াস লিও’।





