৪৮টা দেশ, একটা ট্রফি, আর প্রিয় দল। সবকিছু মিলিয়ে এক একটা ম্যাচ, মুহূর্ত উদযাপনে বুঁদ হয়ে থাকেন দেশের অগণিত ফুটবল সমর্থকরা। প্রতিবার বিশ্বকাপ শুরুর এক মাস আগে বাড়ির ছাদ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় হলের আঙিনা রঙিন হয়ে উঠে পছন্দের দলের পতাকায়। তবে এক সপ্তাহ আগেও প্রিয় দলের পতাকা উড়ানোর সেই চিরচেনা উৎসবমুখর আমেজ এবার সেভাবে দেখা যায়নি। তবে পুরাণ ঢাকার চিত্রটা কিছুটা ভিন্ন। একদল তরুণের আবেগ আর উন্মাদনায় রং তুলির আঁচড়ে।
দুই একের মধ্যে চারপাশে পতাকায় ছেয়ে যাবে বলে আশা করেন অনেকে। ছাত্রছাত্রীরা জানান বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার এখনও বাকি আছে সময় গড়ালেই দেখা যাবে সব কিছু।
আরও পড়ুন
উন্মাদনা এখন ছাদ থেকে ফেসবুক, টিকটক বা ইনস্টাগ্রামে স্থানান্তরিত হয়েছে। সমর্থকেরা এখন ছাদে বিশাল পতাকা ওড়ানোর চেয়ে রিলস বানানো, প্রতিপক্ষকে ট্রল করা বা ডিজিটাল প্রোফাইল পিকচার ফ্রেম পরিবর্তন করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। পতাকার দোকানগুলোতে নেই সেভাবে বেচাকেনা। ব্যবসায়ীরা জানান বিশ্বকাপ শুরু হলেই জার্সি বিক্রি আরও বাড়বে।
একদিকে সোশাল মিডিয়ার প্রভাব অন্যদিকে দেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট- সবমিলিয়ে বিশ্বকাপের আমেজে কিছুটা ভাটা পড়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
অর্থনীতিবিদ মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়ার পরও কেন জানি অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে পাবছে না তা জানি না। তারই প্রভাব হয়তো পরেছে খেলাধুলার মাঝে। তাই মানুষের মাঝে উৎসাহ। কম।’
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. তৈয়বুর রহমান বলেন, ‘মানুষতো সামাজিক জীব। কারণ ইমোশন, আবেগ এসব প্রকাশ পেলেই তো তার দুশ্চিন্তা দূর হবে।’
ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ এবং উন্মাদনা সাময়িকভাবে কিছুটা আড়াল থাকলেও আসর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বকাপে মেতে উঠবেন সবাই, সেটিই প্রত্যাশা সবার।





