৮ বছর পর খেলার সুযোগ পাচ্ছে আফগানিস্তানের নারী ফুটবলদল

আফগানিস্তানের নারী ফুটবলদল
আফগানিস্তানের নারী ফুটবলদল | ছবি: সংগৃহীত
0

প্রায় ৮ বছর বন্ধ থাকার পর এবারে আলোর মুখ দেখছে আফগানিস্তানের নারী ফুটবল। ফিফার বিশেষ অনুমোদনে খেলার সুযোগ পাচ্ছে তারা। আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিসহ এখন আন্তর্জাতিক ম্যাচে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন তারা। দীর্ঘ বাধা আর অনিশ্চয়তার পর নতুন এক আশার গল্প লিখতে যাচ্ছে আফগান নারীরা।

যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপে যখন থেমে যায় স্বপ্ন, তখনই বল পায়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে একদল সাহসী নারী। আফগানিস্তানের মাটিতে যেখানে নারীদের জন্য খেলাধুলা নিষিদ্ধ, সেখানেই ফুটবল হয়ে উঠেছে প্রতিবাদের ভাষা। নির্বাসনে থেকেও থামেনি তাদের লড়াই।

২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় আসলে নিষেধাজ্ঞা জারি হয় নারীদের খেলাধুলায়। এতে অনেক ফুটবলার দেশ ছেড়ে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেন। বর্তমানে ৮০'র বেশি আফগান নারী ফুটবলার এখন অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ, ইউএসএ ও মধ্যপ্রাচ্যের নানা দেশে অবস্থান করছেন।

বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেয়া এসব শরণার্থী নারী ফুটবলারদের নিয়েই ফিফার সমর্থনে তৈরি হয় আফগান উইমেন ইউনাইটেড। দলটি ফিফা ইউনাইটেড উইমেন্স সিরিজের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে তিনটি ম্যাচ খেলেছে। যার মধ্যে নভেম্বরে লিবিয়ার বিপক্ষে জয়ও পেয়েছে তারা।

আরও পড়ুন:

এই ধারাবাহিকতায় নতুন সুখবর পেলো আফগান নারীরা। ফিফার নতুন সিদ্ধান্তে ‘সিম্বল অফ রেজিলেন্স’ তথা ‘ব্যতিক্রম পরিস্থিতিতে’ আফগান নারী জাতীয় দলকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ফলে আফগান নারী ফুটবলাররা আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিসহ এখন আন্তর্জাতিক ম্যাচে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন। ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফানতিনো বলেছেন, এই উদ্যোগ শুধু আফগানিস্তান নয় বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোর জন্যও নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।

নিজেদের খেলার অধিকার ফিরে পেয়ে আফগান অধিনায়ক খালিদা পোপাল এই মুহূর্তকে ঐতিহাসিক আখ্যা দেন। ব্যক্ত করেন আফগান নারীদের হার না মানার অনুভূতি।

আফগান অধিনায়ক খালিদা পোপাল বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমি যা প্রত্যক্ষ করলাম তা এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এটি অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক এই স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য এবং ফিফাকে আমাদের পাশে পাওয়ার জন্য ধন্যবাদ। তারা আমাদের দলকে স্বীকৃতি

দেয় এবং আফগানিস্তানের নারীদের জাতীয় দল হিসেবে খেলতে ও প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ করে দেয়। এর জন্যই আমরা এত দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা ও সংগ্রাম করে আসছিলাম।’

যদও ২০২৭ নারী বিশ্বকাপে খেলতে পারবে না আফগানিস্তান, তবে ২০২৮ অলিম্পিক বাছাইয়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। জুনে আবার মাঠে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। আফগান নারী ফুটবলের মাঠে এই প্রত্যাবর্তন শুধু খেলার নয় এটা অধিকার, সাহস আর আশারও প্রতীক।


এফএস