রাজনীতির ছায়ায় বিশ্বকাপ; যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজন নিয়ে শঙ্কা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। | ছবি: সংগৃহীত
0

অনেকটা পেন্ডুলামের মতো করেই দুলছে বিশ্বকাপের ভাগ্য। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বিশ্বকাপ আয়োজন এখন পর্যন্ত শঙ্কার মুখে। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি, পর্যটকদের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিরোধ, সবটাই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রশ্নে বড় চ্যালেঞ্জ।

খেলা শুরুর আগেই রাজনীতির কবলে বিশ্বকাপ। যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমাগত হামলার জেরে এরইমধ্যে দেশটিতে গিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইরান। মেক্সিকোতে ম্যাচ সরিয়ে নেয়ার জন্য আবেদনও করেছে তারা। যদিও ফিফার পক্ষ থেকে সেটি নাকচ করা হয়েছে। শুরুর আগেই তাই বিতর্ক উঠেছে বিশ্বকাপের সার্বজনীন চেতনা নিয়ে।

কেবল ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক জটিলতাতেই থেমে নেই বিশ্বকাপের নাটকীয়তা। আটলান্টিক পাড়ের দেশটিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও আছে নানা প্রশ্ন। সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে বরাদ্দ প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় না করার সিদ্ধান্তে এখনো অটল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তার এমন পদক্ষেপ খোদ রিপাবলিক পার্টির মাঝেই বিতর্ক শুরু করেছে।

বেনি থম্পসন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন এখনো ১.২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট অ্যাজেন্সির সন্ত্রাসবিরোধী তহবিল আটকে রেখেছে। এটি আরও ছয় মাস আগে কমিউনিটিগুলোর কাছে পৌঁছানো উচিত ছিল। এই তহবিলটি শহরাঞ্চলের নিরাপত্তা এবং নন-প্রফিট সিকিউরিটি গ্রান্ট প্রোগ্রামের জন্য নির্ধারিত ছিল।’

আরও পড়ুন:

যুদ্ধ চলাকালে ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালী বন্ধের সুবাদে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে বিমান ভাড়াতেও। টিকিটের উচ্চমূল্যের পাশাপাশি বিমান ভাড়াও এখন খেলা দেখতে যাওয়া ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বাড়তি দুশ্চিন্তার নাম। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন এবং কঠোর ভিসানীতিও বিশ্বকাপ দেখতে ইচ্ছুক দর্শকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

তবে এতকিছুর পরেও ফিফা প্রেসিডেন্ট জিওভান্নি ইনফান্তিনো আশা করছেন, বিশ্বকাপ কমিয়ে আনবে সব দূরত্ব।

আগামী ১২ জুন থেকে তিন দেশে শুরু হবে ১০৪ ম্যাচের ফিফা বিশ্বকাপ। মাঠের খেলা যথাসময়ে শুরু হলেও সেটা কতটা রাজনীতি আর বিতর্কের উর্ধ্বে থাকবে, সেটাই বড় প্রশ্ন।

এএম