ম্যাচের বয়স তখন ৯০ মিনিট। অরল্যান্ডো সিটির ডি-বক্সের একটু দূরে ফ্রি-কিক পেলো ইন্টার মায়ামি। ফ্রি কিক নিতে এলেন মায়ামির অধিনায়ক লিওনেল মেসি। হালকা দৌড়ে এসে বা পায়ে বাঁকানো শট নিলেন তিনি। অরল্যান্ডোর গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে হালকা বাঁক খেয়ে বল জড়ালো জালে।
মাস তিনেক পর পা দেবেন ৩৯-এ। এমন বয়সেও ফ্রি কিকে জাদু দেখিয়ে যাচ্ছেন মেসি। ফ্রি কিকে গোল করা যেন তার জন্য পেনাল্টির মতোই সহজ। এ নিয়ে টানা ১৯ বছর ধরে পেশাদার ফুটবলে ফ্রি কিক থেকে গোল করলেন মেসি। অরল্যান্ডো সিটির বিপক্ষে সোমবারের ফ্রি কিক গোলটি তার ক্যারিয়ারের ৭০তম। ফ্রি কিকে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে আর্জেন্টাইন মহাতারকার সামনে এখন শুধুই জুনিনহো।
মেসির নাম নিলেই আলোচনায় উঠে আসেন আরেকজন, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। একসময় ফ্রি কিক গোলের সংখ্যায় মেসির চেয়ে বেশ ভালো ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এক্ষেত্রে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছেন সিআর সেভেন। শেষবার ফ্রি কিকে গোলের দেখার পেয়েছিলেন ২০২৪ সালের আগস্টে।
আরও পড়ুন:
২০২২ ফিফা বিশ্বকাপের পর এখন পর্যন্ত ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ফ্রি কিকে মোট ১০টি গোল করেছেন মেসি, রোনালদো ৬ টি। ফ্রি কিকে গোল করায় মেসি নিজেকে দিন দিন আরো উপরে নিলেও রোনালদো গোলের জন্য পেনাল্টির ওপরই তুলনামূলক বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।
কাতার বিশ্বকাপের পর থেকে পেনাল্টিতে ৪৩ শট থেকে ৩৬ বার গোলের দেখা পেয়েছেন রোনালদো। এ সময় নিজের মোট গোলের প্রায় ২৫ শতাংশই পেনাল্টি থেকে করেছেন তিনি। অন্যদিকে একই সময়ে মাত্র পাঁচটি পেনাল্টি কিক নিয়েছেন মেসি, সফল হয়েছেন চারটিতে। গেল ৩ বছরে তার করা মোট গোলের চার শতাংশেরও কম এসেছে পেনাল্টি থেকে।
সব মিলিয়ে বলা যায় গোল করার জন্য গেল কয়েকবছরে পেনাল্টির ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন রোনালদো। অন্যদিকে পেনাল্টির চেয়ে ফ্রি কিকেই বেশি জাদু দেখাচ্ছেন লিওনেল মেসি।





