রমজান জুড়ে ক্রিকেটারদের ছিল প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেটের ব্যস্ততা। এখন ঈদুল ফিতরের জন্য ১০ দিনের বিরতি।
ঈদুল ফিতরের আনন্দে মাতবে গোটা দেশ, আর দেশের শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়াবিদরাও পাচ্ছেন ছুটি। তবে এই স্বস্তির সময় খুব বেশি দীর্ঘ নয়, বিশেষ করে ক্রিকেটারদের জন্য। ঈদের ছুটির পর শুরু হচ্ছে ব্যস্ত সূচি, যেখানে জাতীয় দলের পাশাপাশি নারী ক্রিকেট দল ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের খেলোয়াড়দের জন্য অপেক্ষা করছে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ ও সিরিজ।
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ খেলতে থাকা ক্রিকেটাররা ঈদের ছুটি কাটাতে বাড়ি ফিরেছেন। তবে ৬ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে নবম রাউন্ড, যা ১৩ এপ্রিলের মধ্যে একাদশ রাউন্ড পর্যন্ত গড়াবে। এরপরই শুরু হবে সুপার লিগ পর্ব, যেখানে শিরোপার জন্য হবে জমজমাট লড়াই।
জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ছুটি আরও সংক্ষিপ্ত। ১৫ এপ্রিল জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল বাংলাদেশে আসছে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে। তাই ঈদের পরপরই ক্রিকেটারদের প্রস্তুতিতে ফিরতে হবে।
নারী দলের ক্রিকেটারদের অবশ্য সেই সৌভাগ্য হচ্ছে না। আগামী ১০ এপ্রিল বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামবে বাংলাদেশ। মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২২ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। ৩ এপ্রিল সকালেই মেয়েদের উড়াল দিতে হবে লাহোরের উদ্দেশে। ৫ থেকে ১৯ এপ্রিল লাহোরে অনুষ্ঠিত হবে নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ার। ঈদে তাই পরিবার ছেড়ে ঢাকায়ই থাকছেন নারী ক্রিকেটারা।
এপ্রিলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ছয় ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে যাবে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। ঈদের আগে রাজশাহী ও বগুড়ায় তাদের প্রস্তুতি ক্যাম্প চললেও আপাতত এক সপ্তাহের ছুটি পাচ্ছেন তারা। এরপরই আবার ফিরতে হবে অনুশীলনে।
এশিয়ান কাপ বাছাইপর্ব শেষে বাংলাদেশি ফুটবলাররা নিজ নিজ বাড়িতে ঈদের ছুটি কাটাচ্ছেন। ইংল্যান্ড প্রবাসী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার হামজা চৌধুরীও বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন। তবে সামনে অপেক্ষা করছে ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলের ব্যস্ত সূচি।
একদিকে ঈদের আনন্দ, অন্যদিকে ব্যস্ত সূচির প্রস্তুতি—বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের জন্য এবারের ঈদ কিছুটা স্বস্তির হলেও পুরোপুরি ছুটির মেজাজে থাকার সুযোগ নেই। ঈদ উদযাপনের পরই নামতে হবে প্রতিযোগিতার মঞ্চে, যেখানে সবার লক্ষ্য একটাই দেশের জন্য বয়ে আনতে হবে গৌরব।