‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত ফিফা বিশ্বকাপের এবারের আসর শুরুর বাকি আর মাত্র কয়েকটা দিন। তার আগেই উৎসব শুরু হয়েছে কানাডার ভ্যাঙ্কূভারের সিটিতে। সেখানকার সায়েন্স ওয়ার্ল্ডের আইকনিক ডোমটি যেন রাতারাতি রূপ নিয়েছে এক বিশাল ফুটবলে।
চোখ ধাঁধানো এই ফুটবলটি দেখতে এবং এর সঙ্গে ফ্রেমবন্দি হতে ভিড় জমাচ্ছেন ফুটবলপ্রেমী ও সাধারণ মানুষ। পথচলতি মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু এখন এটি।
দক্ষ কর্মীদের নিখুঁত ছোঁয়ায় শেষ হয়েছে এ বিশালাকার স্থাপনার কাজ। ৪০ মিটার ব্যাসের এ কাঠামোকে বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ম্যাচ বল ‘অ্যাডিডাস ট্রিওন্ডা’র রূপ দিতে ব্যবহার করা হয়েছে ১৩১টি কাস্টম-শেপড প্যানেল। স্প্যানিশ শব্দ ট্রিওন্ডার অর্থ তিন তরঙ্গ, যা তিন আয়োজক দেশ—কানাডা, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বন্ধনের প্রতীক।
উত্তর আমেরিকার এই তিন দেশে যৌথভাবে বসছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফুটবল বিশ্বকাপের আসর। এবারই প্রথম বিশ্বমঞ্চে লড়বে ৪৮টি দল। ঘরের মাঠে এমন মহাযজ্ঞকে ঘিরে কানাডাজুড়ে এখন টানটান উত্তেজনা ও বাঁধভাঙা উল্লাস।
আরও পড়ুন:
উৎসবের এ আমেজ শুধু শহরের বুকেই সীমাবদ্ধ নেই, ছড়িয়ে পড়েছে পাহাড়ি এলাকাতেও। ভ্যাঙ্কূভারের বিখ্যাত গ্রাউস মাউন্টেনে একদল মানুষ মেতে উঠেছেন অন্যরকম এক উন্মাদনায়।
পাহাড়ের ঢালে এক বিশাল কানাডিয়ান পতাকা মেলে ধরার জন্য চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। মেটাল রোপের সঙ্গে শক্ত করে বেঁধে নিশ্চিত করা হচ্ছে এর নিরাপত্তা।
১৬০ মিটার দীর্ঘ এবং ৮০ মিটার প্রস্থের এই দানবীয় পতাকাটি আয়তনে প্রায় একটা ফুটবল ফিল্ডের চেয়েও বড়। প্রায় ১ হাজার ৫৮৭ কেজি ওজনের এই পতাকাটি দেশের ইতিহাসে অন্যতম রেকর্ড গড়া একটি স্থাপনা।
বিশ্বকাপ চলাকালীন এ অঞ্চলে প্রায় ৩ লাখেরও বেশি পর্যটকের সমাগম ঘটবে বলে আশা করছে দেশটি। আর ঘরের মাঠে নিজেদের দলকে সমর্থন জোগাতে এবং পর্যটকদের স্বাগত জানাতে ভ্যাঙ্কূভারের এ নান্দনিক আয়োজন এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।





