১৩ দিন লাগাতার হামলার পর গেল শুক্রবার ইরান সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক আলোচনাকে প্রাধান্য দেন যুদ্ধংদেহী ট্রাম্প। এরপর, টানা দুই রাত যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা না চালানোয়, কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে তেহরানে।
তবে ইরানকে সবসময় গুঁড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া ট্রাম্প কেন যুদ্ধনীতি থেকে সরে এসে কূটনীতিতে মনোযোগী হলেন- তারই উত্তর খোঁজা চেষ্টা করছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো। সিএনএন বলছে, সম্প্রতি ইরান যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে হোয়াইট হাউজে মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ট্রাম্প। এতে অংশ নিয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফসের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের মজুত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এরপরই ইরানে আপাতত হামলা বন্ধের আভাস মেলে ট্রাম্পের কাছ থেকে।
এদিকে, কূটনৈতিক আলোচনার দরজা ফের খোলার সম্ভাবনার মাঝেই হরমুজ ইস্যুতে শুক্র ও শনিবার তেহরানে ইরান ও ওমানের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। এতে দু'পক্ষ নিজেদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রেখে হরমুজে নিরাপদ নৌচলাচলের জন্য এক নীতিতে পৌঁছাতে নিজেদের অবস্থান উল্লেখ করেছে। তবে আলোচনায় জলপথটির রুট বিতর্ক নিয়ে কোনো সমাধান এসেছে কি-না তা স্পষ্ট করেনি কোনো পক্ষই।
অন্যদিকে, কাস্পিয়ান সাগরে নিজেদের বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনের হামলার ঘটনায় তেহরানে নিযুক্ত কিয়েভের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে হামলাটিকে আগ্রাসন হিসেবে উল্লেখ করেছে তেহরানের পররাষ্ট্র দপ্তর। আর জুলাইয়ে যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের আকাশসীমায় কুয়েত কোনো যুদ্ধবিমান পাঠায়নি বলে দাবি করেছেন ওয়াশিংটনে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত। এর আগে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল দাবি করে, তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে গোপনে দেশটির অভ্যন্তরে যুদ্ধবিমান পাঠায় বাহরাইন- কুয়েত।
তবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত আপাতত বন্ধ হলেও, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি আরবের মধ্যে সংঘাতের মাত্রা বাড়ায় স্বস্তি ফেরেনি মধ্যপ্রাচ্যে। ইয়েমেনের হোদাইদাহ বন্দর ও কামরান দ্বীপে সৌদি হামলার জবাবে লোহিত সাগর উপকূলে সৌদি আরামকোর দুটি তেল স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথিরা।
হুথি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারা বলেন, আমরা দুই দফায় অভিযান চালিয়েছি। শুরুতে জিজানে আরামকোর সংবেদনশীল লক্ষ্যবস্তুকে টার্গেট করেছি। এরপর দ্বিতীয় অভিযানে ইয়ানবুতে অবস্থিত আরেকটি আরামকোর স্থাপনায় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছি।
এছাড়াও, লোহিত সাগরে সৌদি - আরবের বিরুদ্ধে চলমান নৌ- অবরোধ কার্যকর থাকবে বলেও দাবি করেছেন ইয়াহিয়া সারা।





