শিকার ও আধুনিকায়নের প্রভাবে পাখি শূন্য হয়ে পড়েছে সুনামগঞ্জ

এখন জনপদে
বিশেষ প্রতিবেদন
0

সুনামগঞ্জ পরিচিত ছিল হাওরের জেলা হিসেবে। আগে যেখানে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ২১৯ প্রজাতির পাখি বসবাস ছিল। এমনকি বিলুপ্তপ্রায় প্যালাসিস ঈগলের দেখাও পাওয়া যেতো। কিন্তু বর্তমানে হাওরে অবাধে পাখির শিকার ও আধুনিকায়নের প্রভাবে পাখি শূন্য হয়ে পড়েছে জেলাটি।

সুনামগঞ্জে প্রচুর হাওড় থাকায় কয়েক দশক আগেও এখানে ছিল পাখিদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র। বিশেষ করে সবুজ শান্ত মাঠ-ঘাট, হিজল ঝরচ বাগান, ক্ষেত-খামারে বিচিত্র পাখির বিচরণ ছিল।

পাখিরা সে সময় ঝাঁকে ঝাঁকে খাদ্য অনুসন্ধানে ব্যস্ত থাকতো। তখন ফসলের মাঠ ও হাওরের সারি সারি হিজল খরচ গাছে এই সব পাখি বসার দৃশ্য সচরাচর দেখা গেলেও এখন তা পাওয়া যায় না। অতীতে গ্রাম এলাকায় ব্যাপকহারে টুনটুনি, চিল, পানকৌড়ি প্যাঁচাসহ এসব পাখির ডাক শুনা গেলেও বিলুপ্ত এইসব পাখি।

এদিকে, শীতের শুরুতেই সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরে ঝাঁক বেঁধে আসতো অতিথি পাখি। পাখির শব্দে তখন হাওর পাড়ের মানুষের ঘুম ভাঙতো। পাখি দল বেঁধে এক জলাশয় থেকে আরেক জলাশয়ে উড়াল দিলে ঝড়ের মতো শব্দ বাড়ি থেকেও শোনা যেত। কিন্তু সেই শব্দ কয়েক বছর ধরে আর শোনা যায় না। তার কারণ শীত মৌসুমে হাওরে আসা এই সব অতিথি পাখি অবাধে শিকার করছে একটি চক্র। আবার সেই শিকার করা পাখির ভিডিও ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

তবে স্থানীয়রা বলছেন, গ্রামের মানুষ প্রয়োজনের তাগিদেই গাছপালা কাটছে। সবার মাটির ঘর থেকে দালান হচ্ছে। ফলে পাখিরা বাসস্থান হারিয়ে ছুটছে অন্যত্র। ফলে পাখির কিচিরমিচির ডাকে এখন আর ঘুম ভাঙে না শহর থেকে গ্রাম গঞ্জের মানুষের।

স্থানীয় একজন বলেন, ‘রাতের বেলা এখন পাখি শিকার করা হয়। দোয়েল, ডুকি, সারো, বগাগুলো মারা হয়। যার কারণে পাখি কম।’

সুনামগঞ্জের স্থানীয় একজন বলেন, ‘শীতকালে সুনামগঞ্জে অনেক অতিথি পাখি আসে। এর সাথে দেশিয় অনেক পাখিও থাকে। কিন্তু এখন এই পাখির খুব সংকট। এটা খুবই কষ্টজনক।’

তবে পাখি শিকারের সঠিক আইন প্রয়োগ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারলেই একদিকে যেমন পাখি শিকার বন্ধ হবে অন্যদিকে পাখিরা খুলা আকাশের নিচে ঘুরতে পারবে বললেন আইনজীবী।

সুনামগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেরেনুর আলী বলেন, ‘অনেক আইন আছে। আইনের কোনো প্রয়োগ হয় না। এই যে পাখি নিধন অবাধে চলছে, বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এগুলো আইন প্রণয়নকারী সংস্থাসহ আইন প্রয়োগ হওয়া একান্ত দরকার। সবচেয়ে বড় জিনিস আমাদেরকে সচেতন হতে হবে।’

এদিকে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক জানালেন, টাঙ্গুয়ার হাওরে অতিথি পাখি যাতে কেউ শিকার না করতে পারে সেজন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্টদের নিবিড়ভাবে হাওর তদারকি করতে নির্দেশ দেয়া আছে। যে পাখি শিকার করবে তাকেই আইনের আওতায় আনা হবে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, ‘এ বছর আপনারা দেখবেন যে অন্যবারের তুলনায় আমরা একেবারেই জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করবো। কেউ যেন অবৈধভাবে অতিথি পাখিদের হত্যা করতে না পারে।’

পাখি শিকার বন্ধে পর্যাপ্ত ভূমিকা ও পাখি রক্ষার্থে শহর থেকে শুরু করে গ্রাম পর্যায়ের সবাই একসঙ্গে কাজ করলে একদিকে যেমন পাখি আনাগোনা বাড়বে অন্যদিকে আবারও প্রকৃতি তার পূর্ণ রূপ ফিরে পাবে।

এসএস