ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘ভূমি বিষয়ে ১০০ জনের মধ্যে ১০০ জনের কমপ্লিন (অভিযোগ) আছে। ওপেনলি (উন্মুক্ত) আমি কিছু বলতে চাই না। তবে আমি জনগণের জন্য সততার সহিত কিছু করতে চাই এবং পর্যায়ক্রমে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করবো। হিরা, সোনা ও রুপা মূল্যবান ধাতু। তবে আল্লাহর দান শ্রেষ্ঠ সম্পদ মাটি। যেখানে বীজ রোপণ করা হলে সোনা ফলে।’
এর আগে বেলা ১১টায় সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচীর আওতায় নিয়ামতপুর উপজেলার বেলগাপুর-জুলুপাড়া উপ-প্রকল্পের বেললতা খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন তিনি। কাজটির বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর নওগাঁ।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘খাল খননের মাধ্যমে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একটি দুর্ভিক্ষপূর্ণ অবস্থা থেকে দেশকে শস্য শ্যামলা বাংলাদেশে পরিণত করেছিলেন। বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলেন। ধানের সর্বোচ্চ স্থান নওগাঁ। শহরগুলো বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের খাদ্যের যে চাহিদা তা আমাদেরকেই পূরণ করতে হবে।’
আরও পড়ুন:
মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘নির্বাচনে জনগণ তাদের ভোট দিয়ে সেবা করার জন্য নির্বাচিত করেছে। জনগণকে শুষে খাওয়ার জন্য না। সারা দেশের নদীগুলোতে নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে পুনঃখনন করা হবে। এছাড়া সারা দেশে সড়কগুলো সংস্কার করা হবে। ফ্যামিলি কার্ড দেয়া শুরু হয়েছে। যার লাগবে কার্ড নিবেন, লাগবে না নিবেন না।’
এসময় নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন- নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল, নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু, নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু এবং নওগাঁ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু।
এসময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, প্রকৌশলী বদরুদ্দোজা, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নুর-এ-আলম মিঠু এবং জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মামুন বিন দোহা সহ বিএনপি অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন:
পরে মরহুম শহিদ জিয়াউর রহমান ও মরহুম বেগম খালেদা জিয়া রুহের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
নওগাঁ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বেলগাপুর-জুলুপাড়া পর্যন্ত বেললতা খালের দৈর্ঘ্য এক হাজার ২০০ মিটার। যার বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১৪ লাখ ৬২ হাজার টাকা। খালের উপরের প্রস্থ ১৪ ফুট ও নিচের প্রস্থ আট ফুট এবং গভীরতা ছয় ফুট। খাল খননের ফলে এক হাজার ৫০টি পরিবার উপকৃত হবে এবং ৭৫১ হেক্টর এলাকার শস্যের নিবিড়তা ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে খালটি পুনঃখনন করা হয়েছিল। দীর্ঘ বছর খনন না করায় পলি পড়ে অনেকটা ভরাট হয়ে কোথাও কোথাও সরু হয়ে যায়। এতে খালের পানি উপচে ফসলি জমিতে পানি প্রবেশ করে। এ মাঠে বছরে একটিমাত্র ফসল বোরো আবাদ হয়ে থাকে। তবে অল্প কিছু পরিমাণ উঁচু জমিতে আমনের আবাদ হয়ে থাকে। খাল খননের ফলে এ মাঠে আমনের চাষাবাদ বাড়বে এবং কৃষকরা অথনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হবে।
আরও পড়ুন:
কৃষক আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘এ মাঠে চার বিঘা জমি আছে। যেখানে একটিমাত্র ফসল বোরো আবাদ হয়ে থাকে। তবে খাল খনন হলে বোরো আবাদের পাশাপাশি আমন ধানসহ বছরে দুইটি ফসল চাষাবাদ হবে। এতে অর্থনৈতিক ভাবেও আমরা লাভবান হবো।’
একই গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, ‘তিন বিঘা জমিতে আবাদ করা হয়। ধান পাকার শেষ মুহূর্তে কাল বৈশাখের ঝড়ে বৃষ্টির পানি খালে নামতে না পারায় জমিতে পানি জমে যায়। এতে ধানেরও ক্ষতি হয়। এছাড়া খাল থেকে সারা বছর পানিও পাওয়া যায়। গভীর নলকুপ থেকে পানি সেচ দেয়ায় খরচ বাড়তি হয়। খালে সারা বছর পানি পাওয়া গেলে জমিতে সেচ খরচ কমবে এবং আবাদও ভালো হবে।’





