রাজবন বিহারে বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপন; বিশ্ব মানবতার মঙ্গল কামনা সমবেত প্রার্থনা

বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপন
বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপন | ছবি: এখন টিভি
0

রাঙামাটিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বুদ্ধ পূর্ণিমা অনুষ্ঠান পালন করছেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বুদ্ধত্ব লাভ ও পরিনির্বাণ এই ত্রি-স্মৃতি বিজড়িত পবিত্র বৈশাখি পূর্ণিমায় বুদ্ধ পূর্ণিমা পালন করা হয়। এই দিনটিকে কেন্দ্র করে গত দু’দিন আগে থেকে বৌদ্ধ মন্দিরগুলোতে পালন করা হয়েছে নানান অনুষ্ঠান। এর মধ্যে পাহাড়ের সবচেয়ে বড় আয়োজন করা হয় রাঙামাটির রাজবন বিহারে। বিশ্ব মানবতার মঙ্গল কামনা করা হয় সমবেত প্রার্থনা।

আজ (শুক্রবার, ১ মে) রাজবন বিহারে ধর্মীয় মঙ্গল শোভাযাত্রাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে দিনটি পালন করা হয়। সকাল ৭টায় রাঙামাটি শহরে জিমনেসিয়াম মাঠ প্রাঙ্গণ থেকে বুদ্ধ ধাতু প্রদর্শনসহকারে ধর্মীয় শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রায় ধর্মীয় পতাকা হাতে সব বয়সী বিপুল সংখ্যক পূণ্যার্থী অংশ নেন।

এরপর সকাল ৯টায় রাজবন বিহার প্রাঙ্গণে আয়োজিত ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পঞ্চশীল প্রার্থনা, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান, বুদ্ধমুর্তি দান ও মঙ্গলসূত্র পাঠ করা হয়। এতে সব প্রাণির মঙ্গল কামনায় বুদ্ধমুর্তি দান, অষ্টপরিস্কার দান, সংঘদান, হাজার প্রদীপ দান ও পূজা পঞ্চশীল গ্রহণ, নানাবিধ দানানুষ্ঠান এবং উৎসর্গ করা হয়। এ পূর্ণিমা অংশ নিয়ে সব প্রাণির সুখ শান্তি এবং দেশের শান্তি কামনা করেন পূন্যার্থীরা।

শিক্ষার্থী মনীষা চাকমা বলেন, ‘আজ বুদ্ধের ত্রি স্মৃতি বিজড়িত দিন বৌদ্ধ পূর্ণিমা। পরিবার নিয়ে রাজবন বিহারে এসেছি। পরিবার ও বিশ্বের মঙ্গল ও শান্তি কামনা করে প্রার্থনা করেছি।’

আরও পড়ুন:

দয়াধন চাকমা বলেন, ‘শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমার দিনে এটাই প্রার্থনা যাতে- পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ফিরে আসুক। সারা বিশ্ব যাতে হানাহানি- মারামারি- যুদ্ধ না হয়। বুদ্ধের কাছে এই প্রার্থনা করি।’

অনুষ্ঠানে পূণ্যার্থীদের পঞ্চশীল ও ধর্ম দেশনা প্রদান করেন রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির। এসময় তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনাসহ দেশ ও বিশ্বের শান্তি ও মঙ্গল কামনা করে বুদ্ধ পূর্ণিমার আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেন।

আরও পড়ুন:

রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির বলেন, ‘রাঙামাটি রাজবন বিহার একটি ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এখানে আজ আমাদের ত্রিস্মৃতি বিজড়িত শুভ বৈশাখি পূর্ণিমা উদযাপন করা হচ্ছে। এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আমরা সবাই সব প্রাণির সুখ শান্তি মঙ্গল করি। আমাদের বাংলাদেশের উন্নতি সমৃদ্ধির প্রার্থনা করছি। বিশ্বের সব মানবের সুখ শান্তি মঙ্গল ও কল্যাণ বয়ে আনুক-এই কামনা করছি।’

এ পূর্ণিমা পালনের মধ্য দিয়ে বুদ্ধের দেয়া উপদেশ বানী বিশ্বে ছড়িয়ে যাবে। লোভ দ্বেষ মোহ ত্যাগ করে অহিংসা মৈত্রীভাব তৈরি হবে এমন প্রার্থনা ছিল অনুষ্ঠানের পুণ্যার্থীদের।

এসএস