নারায়ণগঞ্জে ব্রহ্মপুত্র নদে ‘পাপমুক্তির’ মহাস্নান শুরু

নারায়ণগঞ্জে ব্রহ্মপুত্র নদে ‘পাপমুক্তির’ মহাস্নান
নারায়ণগঞ্জে ব্রহ্মপুত্র নদে ‘পাপমুক্তির’ মহাস্নান | ছবি: এখন টিভি
0

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পুণ্য স্নানোৎসব শুরু হয়েছে। আজ (বুধবার, ২৫ মার্চ) বিকেল থেকে নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দে এ উৎসব শুরু হয়েছে। প্রতিবছর চৈত্র মাসের শুক্লা তিথিতে দেশ-বিদেশের লাখো পুণ্যার্থী ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে সমবেত হন। তাদের বিশ্বাস, শুক্লা অষ্টমী তিথিতে এ নদীতে স্নানের মাধ্যমে পাপমোচন ঘটে এবং ব্রহ্মার সন্তুষ্টি লাভ করা যায়।

উদযাপন কমিটির উপদেষ্টা শংকর কুমার দে জানান, বুধবার বিকাল ৫টা ১৭ মিনিটে স্নান শুরু হয়ে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ) দুপুর ২টা ৫৯ মিনিটে শেষ হবে। এবার লাঙ্গলবন্দের ২৪টি ঘাটে স্নান অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

পৌরাণিক বর্ণনা মতে, ত্রেতা যুগে ব্রাহ্মণ জমদগ্নি ও রেণুকার পুত্র পরশুরাম মাতৃহত্যার পাপ থেকে মুক্তি পেতে তপস্যা করেন। পরে নির্দেশনা অনুযায়ী চৈত্র মাসের অষ্টমী তিথিতে এক পবিত্র নদীতে স্নান করে পাপমুক্ত হন। পরবর্তীতে সেই পুণ্যধারা সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করতে তিনি লাঙ্গল দিয়ে হিমালয় থেকে সমভূমিতে জলধারা নিয়ে আসেন। বর্তমান নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় এসে তিনি লাঙ্গল চালানো বন্ধ করলে স্থানটির নাম হয় ‘লাঙ্গলবন্দ’।

স্নানোৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, ‘পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে ২৪টি স্নানঘাট সংস্কার, নদের কচুরিপানা অপসারণ এবং বিশুদ্ধ পানির জন্য ৪৭টি নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া নারীদের জন্য পৃথক পোশাক পরিবর্তন কক্ষ ও ২০০টি অস্থায়ী শৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:

জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সি বলেন, ‘পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তায় দুই শিফটে প্রায় এক হাজার ১০০ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আলাদা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আনসার সদস্যরা সহযোগিতা করবেন। নৌ পুলিশও মোতায়েন থাকবে যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।’

তিনি আরও জানান, পুরো তিন কিলোমিটার এলাকা সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি ও ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে।

এছাড়াও পুণ্যার্থীদের জন্য সেবাকেন্দ্রে সরকারি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে জানানো হয় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। ঈদের সময় হওয়ায় মহাসড়কে চাপ বাড়তে পারে, সে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। পূজা উদযাপন পরিষদের স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি বিএনপির ২৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন।

চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। দু’টি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে এবং জেলা প্রশাসনের একজন এডিসি সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকবেন। প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর টিম টহলে থাকবে। এছাড়া ১০ শয্যার একটি অস্থায়ী হাসপাতাল, মেডিকেল টিম, রোগী পরিবহনের জন্য রিকশা ও ছয়টি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এদিকে নদীতে সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে কোস্টগার্ড, ফায়ারসার্ভিস, নৌ-পুলিশ, র‍্যাব। কোস্টগার্ড ও ফায়ারসার্ভিসের ডুবুরি দল রয়েছে। যাতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তারা দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারে। ফায়ার সার্ভিস থেকে জানানো হয়েছে, তাদের ডুবুরিসহ ৪০ সদস্যর একটি দল নদীতে টহলরত অবস্থায় আছে। কোস্ট গার্ডের ডুবুরিসহ ছয় সদস্যর একটি দল কাজ করছে।

এসএস