পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও আলাদা স্থানে নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
দেশের আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা না গেলেও আন্তর্জাতিক চাঁদ দেখার ভিত্তিতে এবং দীর্ঘদিনের স্থানীয় ঐতিহ্য মেনে এসব জেলার নির্দিষ্ট কিছু এলাকার মানুষ একদিন আগেই ঈদ পালন করে আসছেন।
চাঁদপুর
চাঁদপুরের অর্ধশতাধিক গ্রামে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। হাজীগঞ্জ উপজেলার ‘সাদ্রা দরবার শরীফে’ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধান ঈদের জামাতে ইমামতি করেন দরবারের পীর মুফতি জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানী।
মুফতি জাকারিয়া বলেন, ‘এসব গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করেই ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন।’
হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা গ্রামের বাসিন্দা মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘কোরআন ও হাদিসের আলোকে ১৯২৮ সাল থেকে প্রথম চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ধর্মীয় রীতিনীতি চালু করেন সাদ্রা দরবার শরীফের মরহুম পীর মোহাম্মদ ইসহাক চৌধুরী। তার মৃত্যুর পর তার ছয় ছেলে এ মতবাদ অনুসরণ ও প্রচার অব্যাহত রেখেছেন।’
জামালপুর
শুক্রবার সকালে জেলার ২১ গ্রামের বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহ মাঠে ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। সরিষাবাড়ী উপজেলার সরিষাবাড়ী পৌরসভার বলারদিয়ার মধ্যপাড়া মাস্টার বাড়ি জামে মসজিদের ঈমাম আজিম উদ্দিন মাস্টার বলেন, তারা রোজা থেকে শুরু করে সব ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান মধ্যপ্রাচ্যের সময়সূচি অনুসরণ করে করেন। ঈদুল ফিতরের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নয়।
তিনি বলেন, ‘সৌদি আরবের সময়ের সঙ্গে বাংলাদেশের সময়ের পার্থক্য মাত্র কয়েক ঘণ্টা, তাই আমরা একদিন আগেই ঈদ উদযাপন করি। এখানে শতাধিক নারী-পুরুষ ঈদের জামাত আদায় করেন।’
সাতক্ষীরা
এ জেলার অন্তত ২০ থেকে ২৫টি গ্রামের মানুষ একদিন আগেই ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন। শুক্রবার সকাল ৮টা ২৩ মিনিটে কুশখালী বাউকোলা জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয় প্রধান ঈদের জামাত। এতে ইমামতি করেন মসজিদ ও ঈদের জামাতের ঈমাম মহব্বত আলী।
তিনি বলেন, ‘সারাবিশ্বে যদি একই দিন হিজরী নববর্ষ হয় তবে একই দিনে ঈদ ও রোজা আয়োজন যুক্তিসঙ্গত।’
দিনাজপুর
দিনাজপুরের বিরামপুরে দু’টি ইউনিয়নের প্রায় ১৫ গ্রামের মানুষ ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন। জামাতে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও অংশ নেন। আয়ড়া মাদরাসা মাঠে জামাতের ইমামতি করেন আল আমিন এবং খয়ের বাড়িতে দোলোয়ার হোসেন ইমামতি করেন।
ঈমাম দেলোয়র হোসেন বলেন, ‘১৯৯৭ সাল থেকে এভাবে নামাজ আদায়ের পরিকল্পনা থাকলেও ২০১৩ সাল থেকে আমরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে নামাজ আদায় করছি।’
নোয়াখালী
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ, কবিরহাট ও সদর উপজেলার পাঁচ গ্রামের দুই শতাধিক ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা আজ ঈদ উদযাপন করেছেন। তাদের পূর্বপুরুষদের দেখানো পথ ধরে শত বছরের বেশি সময় ধরে তারা এই সংস্কৃতি পালন করে আসছেন। আগাম ঈদ উদযাপনকারী এসব মানুষ হানাফী মাযহাব ও কাদেরিয়া তরিকার অনুসারী।
গ্রামগুলো হলো- নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর ও হরিণারায়নপুর গ্রাম, কবিরহাট উপজেলার ঘোষবাগ ইউনিয়নের রামভল্লবপুর, বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বসন্তবাগ ও ফাজিলপুর গ্রাম।
মৌলভীবাজার
মৌলভীবাজারে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন একদল মুসল্লি। আজ সকাল ৭টায় শহরের সার্কিট হাউস এলাকায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে ইমামতি করেন আবদুল মাওফিক চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা শুরু করার কারণে প্রতিবছরের মতো এবারও একই দিনে ঈদ উদযাপন করা হয়েছে।’
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হয়েছে। সকালে ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকায় এ উপলক্ষে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
নারায়ণগঞ্জ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৯টায় লামাপাড়াস্থ হযরত শাহ্ সুফী মমতাজিয়া এতিমখানা ও হেফজখানা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ‘জাহাগিরিয়া তরিকার’ অনুসারীরা ঈদের নামাজ আদায় করেন। এতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত মুসল্লিদের উপস্থিতিতে জামাতটি পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।
ফরিদপুর
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ১০টি গ্রামে প্রতিবছরের মতো এবারও ব্যতিক্রমীভাবে একদিন আগেই পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে শুরু হয়ে বেলা ১০টার মধ্যে পর্যায়ক্রমে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় বোয়ালমারীর সহস্রাইল দায়রা শরীফ, রাখালতলি ও মাইটকুমরা মসজিদে।
সহস্রাইল দায়রা শরীফের সমন্বয়কারী মো. মাহিদুল হক বলেন, ‘আমরা চট্টগ্রামের মির্জাখিল শরীফের অনুসারী। সেখানকার সিদ্ধান্ত এবং সৌদি আরবের চাঁদ দেখার ভিত্তিতে আমরা রোজা ও ঈদ উদযাপন করে থাকি। সে অনুযায়ী এবারও আমরা একদিন আগে ঈদ পালন করেছি।’
টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ৪০টি পরিবার ঈদ উদযাপন করেছে। নামাজ শেষে বিশ্বের মুসলিম উম্মার জন্য দোয়া করা হয়। শুক্রবার সকাল ৮ টায় দেলদুয়ারের শশীনাড়া গ্রামের স্থানীয় মসজিদের মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয়রা জানান, শশীনাড়া গ্রামের কিছু মুসুল্লি ২০১২ সাল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করে আসছে। ঈদের নামাজ পড়ান হাফেজ মাওলানা এরশাদুল হক।
বরিশাল
বরিশাল নগরীসহ জেলার পাঁচ উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার পরিবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করছে আজ। তারা চট্টগ্রামের চন্দনাইশ এলাহবাদ জাহাগীরিয়া শাহসুফি দরবার শরীফের অনুসারী। পৃথিবীর কোনো প্রান্তে চাঁদ দেখা গেলে তার সঙ্গে মিল রেখে তারা রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা পালন করেন।
আজ শুক্রবার সকালে জেলার প্রায় অর্ধশত মসজিদে আগাম ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়।





