ঈদে পশু জবাইয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিধিনিষেধ বহাল রাখলো আদালত

কলকাতা হাইকোর্ট
কলকাতা হাইকোর্ট | ছবি: সংগ্রহীত
0

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নির্দিষ্ট কিছু পশু জবাইয়ের ওপর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দেয়া বিধিনিষেধ বহাল রেখেছেন কলকাতা হাইকোর্ট। রাজ্য সরকারের গত ১৩ মে এর প্রজ্ঞাপনে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করে আদালত জানিয়েছেন, এই নির্দেশিকা ২০১৮ সালের বিচার বিভাগীয় আদেশের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ জানান, প্রজ্ঞাপনটি বাতিলের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। কারণ এটি আদালতের আগের নির্দেশগুলোই বাস্তবায়ন করছে। ডিএননের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ষাঁড়, বলদ, গাভী, বাছুর এবং মহিষ জবাই করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যদি কোনো পশুকে ‘কাজের অনুপযোগী’ হিসেবে সনদ দেয়া হয়, তবেই সেটিকে জবাই করা যাবে। আদালত আরও স্পষ্ট করেছেন যে, যেখানে অনুমতি আছে, সেখানেও কেবল অনুমোদিত স্থানেই পশু জবাই করতে হবে। অবৈধ কার্যক্রম রোধে কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট জায়গা পরিদর্শনের ক্ষমতাও দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আদালত রাজ্য সরকারকে ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদান ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক আখরুজ্জামান এই প্রজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে একটি আবেদন করেছিলেন। তার দাবি ছিল, এই বিধিনিষেধ ঈদুল আজহার ধর্মীয় আচারে প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি যুক্তি দেন যে, পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইনের ১২ নম্বর ধারা অনুযায়ী ধর্মীয় উদ্দেশ্যে জবাইয়ের ক্ষেত্রে সরকারকে ছাড় দেয়ার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এছাড়া অনেক পরিবারের জন্য বড় পশু কোরবানি করা অর্থনৈতিকভাবে বেশি সাশ্রয়ী। তবে আদালত এই যুক্তিতে প্রজ্ঞাপন স্থগিত করতে রাজি হননি।

আইন অনুযায়ী, রাজ্য সরকার বিশেষ পরিস্থিতিতে ধর্মীয় প্রয়োজনে পশু জবাইয়ের অনুমতি দিতে পারে। তবে আদালতের বর্তমান সিদ্ধান্তের ফলে আসন্ন কোরবানির ঈদে রাজ্যে এই বিধিনিষেধ বহাল থাকছে। আদালত প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা আইন প্রয়োগের সময় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে সেদিকে খেয়াল রাখে এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা বজায় রাখে।

এএম