রোজা আল্লাহর জন্য এবং তিনিই এর প্রতিদান (Fasting is for Allah)
হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন: “রোজা আমার জন্য; আমিই এর প্রতিদান দিব।” যখন স্বয়ং আল্লাহ নিজ হাতে পুরস্কার দেওয়ার কথা বলেন, তখন সেই সওয়াবের বিশালতা কল্পনা করাও অসম্ভব। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিসকের সুবাসের চেয়েও উত্তম।
আরও পড়ুন:
রোজাদারদের জন্য বিশেষ দরজা ‘রাইয়্যান’ (Ar-Rayyan gate for fasting people)
জান্নাত হলো অনন্ত সুখের আবাস, যার আটটি দরজা (Eight gates of Jannah) রয়েছে। হযরত সাহল (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন:
إِنَّ فِي الْجَنَّةِ بَابًا يُقَالُ لَهُ الرَّيَّانُ، يَدْخُلُ مِنْهُ الصَّائِمُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، لاَ يَدْخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ
"জান্নাতের একটি দরজা আছে যার নাম 'রাইয়্যান'। কিয়ামতের দিন এ দরজা দিয়ে শুধু রোজাদারগণ প্রবেশ করবে; অন্য কেউ নয়।" (সহিহ বুখারি: ১৭৬৩)
কেয়ামতের দিন যখন ঘোষণা করা হবে— "রোজাদারগণ কোথায়?" তখন তারা উঠে দাঁড়াবেন এবং এই বিশেষ দরজা দিয়ে প্রবেশ করবেন। তাদের প্রবেশের পর দরজাটি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হবে।
রমজানে জান্নাতের সব দরজা উন্মুক্ত (Gates of Heaven open in Ramadan)
রমজান মাস শুরু হওয়ার সাথে সাথে জান্নাতের সব কটি দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
إِذَا دَخَلَ شَهْرُ رَمَضَانَ فُتِحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ، وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ جَهَنَّمَ، وَسُلْسِلَتِ الشَّيَاطِينُ
"যখন রমজান মাস প্রবেশ করে তখন জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়; জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানগুলোকে শিকলাবদ্ধ করা হয়।" (সহিহ বুখারি: ৩০৩৫)
আরও পড়ুন:
রোজাদারের জন্য দুটি বিশেষ আনন্দ (Two joys of a fasting person)
হাদিস অনুযায়ী, রোজাদারের জন্য দুটি বিশেষ খুশির মুহূর্ত রয়েছে:
১. ইফতারের সময় (Time of Iftar): দীর্ঘ উপবাসের পর রোজা ভাঙার আনন্দ।
২. রবের সাক্ষাৎ (Meeting with Allah): পরকালে যখন তিনি তার মহান প্রতিপালকের দেখা পাবেন।
জান্নাতে মুমিন ব্যক্তি একা থাকবেন না; তার নেককার পিতা-মাতা, স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানরাও সঙ্গে থাকবেন (সুরা আর-রাদ: ২৩)। ফেরেশতারা প্রতিটি দরজা দিয়ে এসে তাঁদের সালাম ও সম্মান জানাবেন। যারা আল্লাহকে ভয় করে জীবন কাটিয়েছে, তাদের সম্মানের সাথে জান্নাতে নেওয়া হবে (সুরা আল-যুমার: ৭৩)।
কাজেই রাইয়্যানের দরজা এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে হলে রোজাকে ঢাল (Shield) হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। অন্তরের পবিত্রতা ও সঠিক নিয়তের মাধ্যমে সিয়াম পালন করলেই মিলবে জান্নাতের সেই কাঙ্ক্ষিত পুরস্কার। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে মাহে রমজানের হক আদায় করার তৌফিক দান করুন। আমিন!
আরও পড়ুন:
রোজাদার ও জান্নাতের ‘রাইয়্যান’ দরজা: ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর-FAQ
প্রশ্ন: জান্নাতের কোন দরজা শুধু রোজাদারদের জন্য নির্ধারিত (Which gate is for fasting people)?
উত্তর: জান্নাতের 'রাইয়্যান' (Ar-Rayyan) নামক দরজাটি শুধুমাত্র রোজাদারদের জন্য নির্ধারিত। কেয়ামতের দিন এই দরজা দিয়ে তারা ছাড়া আর কেউ প্রবেশ করতে পারবে না।
প্রশ্ন: রাইয়্যান (Ar-Rayyan) শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: 'রাইয়্যান' শব্দের অর্থ হলো—তৃপ্তিদায়ক বা সতেজ। যেহেতু রোজাদাররা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দুনিয়াতে তৃষ্ণা সহ্য করেন, তাই এই দরজা দিয়ে প্রবেশের সময় তারা এমনভাবে তৃপ্ত হবেন যে আর কখনো তৃষ্ণার্ত হবেন না।
প্রশ্ন: জান্নাতের মোট কয়টি দরজা রয়েছে (How many gates in Jannah)?
উত্তর: বিভিন্ন সহিহ হাদিস অনুযায়ী জান্নাতের মোট ৮টি (Eight) দরজা রয়েছে। প্রত্যেকটি দরজার আলাদা নাম ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
প্রশ্ন: রাইয়্যান দরজা দিয়ে প্রবেশের পর কী হবে?
উত্তর: হাদিস অনুযায়ী, যখন সব রোজাদার এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করে শেষ করবেন, তখন দরজাটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। ফলে অন্য কেউ আর সেই পথ দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না।
প্রশ্ন: রমজান মাসে জান্নাতের সব দরজা কেন খুলে দেওয়া হয়?
উত্তর: রমজান মাসে আল্লাহর বিশেষ রহমত ও মাগফিরাত বর্ষিত হয়। বান্দাকে ইবাদতে উৎসাহিত করতে এবং জান্নাতের পথ সহজ করতে এই মাসে জান্নাতের সব দরজা উন্মুক্ত রাখা হয়।
প্রশ্ন: রোজাদারের জন্য দুটি বিশেষ খুশির খবর কী কী (Two joys of fasting)?
উত্তর: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, রোজাদারের জন্য দুটি খুশি: ১. ইফতারের সময়কার আনন্দ এবং ২. পরকালে আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের সময়কার আনন্দ।
প্রশ্ন: জান্নাতের দরজায় ফেরেশতারা কীভাবে অভ্যর্থনা জানাবে?
উত্তর: কুরআন অনুযায়ী, ফেরেশতারা প্রত্যেক দরজা দিয়ে এসে জান্নাতিদের 'সালামুন আলাইকুম' (আপনাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) বলে অভিবাদন জানাবেন এবং তাদের চিরস্থায়ী সুখের সুসংবাদ দেবেন।
প্রশ্ন: জান্নাতে কি পরিবারের সবাই একসাথে থাকতে পারবে?উত্তর: হ্যাঁ, সুরা আর-রাদের আয়াত অনুযায়ী, মুমিন ব্যক্তির সাথে তার নেককার পিতা-মাতা, স্ত্রী ও সন্তানরাও জান্নাতে একত্রে থাকার সুযোগ পাবেন।
প্রশ্ন: রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে কেমন (Breath of a fasting person)?
উত্তর: হাদিসে এসেছে, আল্লাহর কাছে রোজাদারের মুখের গন্ধ মেশক আম্বরের সুবাসের চেয়েও বেশি প্রিয় ও সুগন্ধযুক্ত।
প্রশ্ন: জাহান্নামের দরজাগুলো কখন বন্ধ রাখা হয়?
উত্তর: রমজান মাসের প্রথম রাত থেকেই জাহান্নামের সব কটি দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং সারা মাস তা আর খোলা হয় না।
প্রশ্ন: রাইয়্যান দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে হলে কী শর্ত পূরণ করতে হবে?
উত্তর: শুধুমাত্র লোক দেখানো রোজা নয়, বরং খাঁটি নিয়ত ও পাপাচার মুক্ত থেকে যারা যথাযথভাবে সিয়াম পালন করবেন, তারাই এই দরজা দিয়ে প্রবেশের অধিকারী হবেন।
প্রশ্ন: যারা নফল রোজা রাখেন, তারাও কি রাইয়্যান দিয়ে প্রবেশ করবেন?
উত্তর: হ্যাঁ, যারা ফরজ রোজার পাশাপাশি নফল রোজায় অভ্যস্ত, তারাও রাইয়্যান দরজা দিয়ে ডাকার বিশেষ মর্যাদা লাভ করবেন।
প্রশ্ন: 'সালাত' বা 'সদকা'র কি আলাদা দরজা আছে?
উত্তর: হ্যাঁ, জান্নাতের আটটি দরজার মধ্যে সালাত আদায়কারীদের জন্য 'বাবুস সালাত', দানশীলদের জন্য 'বাবুস সদকা' এবং জিহাদকারীদের জন্য 'বাবুল জিহাদ' রয়েছে।
প্রশ্ন: কোনো ব্যক্তি কি সব কটি দরজা দিয়ে ডাকার মর্যাদা পেতে পারেন?
উত্তর: হ্যাঁ, হযরত আবু বকর (রা.) সম্পর্কে নবীজি (সা.) বলেছিলেন যে, তিনি জান্নাতের সব কটি দরজা থেকেই আমন্ত্রিত হবেন। উত্তমরূপে ওযু করে নির্দিষ্ট দোয়া পড়লেও আটটি দরজার যেকোনোটি দিয়ে প্রবেশের সুযোগ থাকে।
প্রশ্ন: রমজানে শয়তানকে কেন শিকলবন্দি করা হয় (Shackling of Shaitan)?
উত্তর: যাতে শয়তান মুমিনদের ইবাদতে সরাসরি বিঘ্ন ঘটাতে না পারে এবং মানুষ যেন সহজে জান্নাতের পথে এগিয়ে যেতে পারে, সেজন্যই শয়তানদের বন্দি রাখা হয়।





